ইসরাইলের নির্বাচনে অর্থের বিনিময়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। আরব রাজনৈতিক দল রা’আমের পক্ষে ভোট দিতে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে তাঁদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সেগেভ শালোম ও আরআরা বেনেগেভ এলাকার বাসিন্দা ওই তিনজনকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, নির্বাচনের আগের দিন সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা ভোটারদের অর্থের বিনিময়ে রা’আম পার্টির পক্ষে ভোট দিতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছিলেন। এ ঘটনায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে নগদ অর্থভর্তি খাম এবং রা’আম দলের নেতা মানসুর আব্বাসের পক্ষে নির্ধারিত ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নেতানিয়াহু নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভোটারদের তাঁর দল লিকুদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ শুরুর প্রায় চার ঘণ্টা আগে ওই তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তবে তাঁদের কোনো ভোটকেন্দ্রের কাছ থেকে কিংবা ভোট দিতে আসা ব্যক্তিদের পাশে থেকে আটক করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রা’আম পার্টি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির দাবি, তাদের কর্মীরা কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। বরং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নিয়ন্ত্রণাধীন পুলিশ আরব জনগোষ্ঠীর ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ অর্থভর্তি কয়েকটি খাম জব্দ করা হয়েছে। এসব খামে কয়েক দশ হাজার ইসরায়েলি শেকেল ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা কিছু লিখিত নোট ও অন্যান্য সামগ্রীও জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার তিনজনকে দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার জালিয়াতি তদন্ত ইউনিটে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখার আবেদন জানাতে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলমান থাকায় ভোট কেনার অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি। তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
