রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের কিংফিশার রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মদ জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চারটি গোয়েন্দা দল। গত রোববার মধ্যরাতে প্রায় তিন ঘণ্টার এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় জব্দ করা হয়। জব্দ করা মদের মজুত রাখা নিয়ে বৈধ কাগজপত্র রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি।
এনবিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অ্যালকোহল বিক্রির খবর পেয়ে রোববার মধ্যরাতে এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সহযোগিতা দেয় এসআরবি। এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), কাস্টম গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (টিআইআইইউ) এবং মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এ অভিযানে অংশ নেয়। ‘কিংফিশার রেস্টুরেন্ট লিমিটেড’-এ সমন্বিত এ অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ উৎস থেকে আনা ও বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়েছে। শুল্কসহ জব্দ করা এসব পণ্যের মোট বাজারমূল্য ৪ কোটি ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
এর আগে ২৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টায় গুলশানের ৪৫ নম্বর সড়কের ৩৩ নম্বর প্লটে অবস্থিত ওই রেস্টুরেন্টে বিশেষ এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা প্রদান করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ানের (এসআরবি-১) সদস্যরা। কাস্টম আইন-২০২৩, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ এবং আয়কর আইন-২০২৩ এর বিভিন্ন ধারার ক্ষমতাবলে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে রেস্টুরেন্টটির ওয়্যারহাউস ও ডিসপ্লেতে থাকা পানীয়ের তালিকা (ইনভেন্ট্রি) করার সময় একটি গোপন কক্ষের সন্ধান পান গোয়েন্দারা। সেখানে রেজিস্টারে এন্ট্রিবহির্ভূত বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার মজুত রাখা ছিল। অভিযানে শিভাস রিগ্যাল, ব্ল্যাক লেবেল, রেড লেবেল, জ্যাক ড্যানিয়েল, গোল্ড লেবেল, ভ্যাট-৬৯, গর্ডনস জিন ও অ্যাবসিউলুট ভদকাসহ মোট ৮২৬ লিটার মদ। যার আনুমানিক মূল্যের ওপর শুল্কসহ মোট মূল্য ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা (আদায়যোগ্য শুল্ক ৩ কোটি ২ লাখ ৩১ হাজার টাকা)। হান্টার, হাইনেকেনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১ হাজার ৫৩৩ লিটার বিয়ার। যার শুল্কসহ মোট মূল্য ৫০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। সর্বমোট ২,৩৫৯ লিটার মদ ও বিয়ার, যার শুল্কসহ সর্বমোট মূল্যায়ন ৪ কোটি ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
কাস্টম গোয়েন্দা সূত্রে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ আমদানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত নয়। অনুসন্ধানকালে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ দেশীয় মদ ও বিয়ার ক্রয়ের সাপেক্ষে নামমাত্র কিছু চালান দেখালেও সিংহভাগ দেশীয় পণ্যের কোনো চালান দেখাতে পারেনি। একই সঙ্গে জব্দ করা সব ধরনের বিদেশি মদ ও বিয়ার ক্রয়ের স্বপক্ষে কোনো ধরনের বৈধ দলিলাদি বা আমদানির কাগজপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়। অবৈধ উৎস থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে এসব পণ্য সংগ্রহ, ভ্যাট-শুল্ক ফাঁকি এবং আয়কর নথিতে বিক্রয়লব্ধ অর্থ গোপন করা ছাড়াও এর সঙ্গে মানি লন্ডারিংয়ের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।