২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুথানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে যোগাযোগ। নতুন করে দুই দেশের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। এবার দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। আজ সোমবার ঢাকায় সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর অফিসে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আফরোজা। তাঁদের মধ্যে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, খাদ্যশস্য আমদানি, দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্য সংরক্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও যোগাযোগ-সহ বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশেষ করে দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে জানায় ঢাকা। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থ বছরে পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছিল। চাল নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছে এবং এর মানও সন্তোষজনক ছিল। তিনি পাকিস্তানের বাসমতী চালের প্রশংসা করেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রেখে সংরক্ষণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি এ বিষয়ে পাকিস্তানের সহযোগিতা চান।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর ফলে জনগণের যাতায়াত ও পারস্পরিক যোগাযোগ সহজ হয়েছে। বিশেষ করে করাচির বাসিন্দারা এই যোগাযোগের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাকিস্তানের হাইকমিশনার বাংলাদেশি পণ্য ও পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, পাকিস্তানে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও আনারসের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে বৃত্তি পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ কাজে লাগাতে তিনি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। এদিনের বৈঠকে পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফ, খাদ্য সচিব আবু তাহের মহম্মদ মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহম্মদ জসিম উদ্দিন খান-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের অভিনেতা বিলাল আব্বাস খান। রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত ‘পাকিস্তান লাইভস্টাইল এক্সিবিশন’-এ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি। ঢাকার গুলশান শুটিং ক্লাবে আগামী ৪ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে পাঁচ দিনব্যাপী পাকিস্তান লাইভস্টাইল এক্সিবিশন। মেলায় পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী লাইফস্টাইল, বিবাহ সংস্কৃতি ও সুস্বাদু নানা খাবারের পসরা সাজানো হবে। জানা গেছে, এই মেলায় অংশ নিচ্ছেন বিলাল আব্বাসের মা ফ্যাশন ডিজাইনার ও ব্যবসায়ী ফারহানা সোহাইল। মূলত মায়ের ব্যবসায়িক উদ্যোগকে সমর্থন জানাতেই এই মেলায় অংশ নিতে আসছেন বিলাল আব্বাস।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের লাইফস্টাইল পণ্য এবং সংস্কৃতির প্রচারের লক্ষ্যে পঞ্চমবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে এই প্রদর্শনী। আয়োজক প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান লাইভস্টাইল (পিএলএস)-এর দেওয়া তথ্যমতে, এই আয়োজন প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ৪ তারিখ মেলা শুরু হলেও বিলাল আব্বাস ঢাকায় আসবেন ৬ নভেম্বর। থাকবেন শেষ দিন ৮ নভেম্বর পর্যন্ত।
পাকিস্তানি সিরিয়াল ‘ও রাংরেজা’, ‘চিঁক’, ‘প্যায়ার কে সাদকে’, ‘ডাঙ্ক’, ‘ইশক মুর্শিদ’ এবং সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’-এ অভিনয় করে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন বিলাল।
