উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এনকাউন্টারে হত যুবক প্রহ্লাদ দাসের শরীরে তিনটি গুলি লাগে। দু’টি গুলি লাগে বুকে। আর একটি গুলি লাগে তাঁর বাঁ পায়ের উরুতে। গুরুতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা অভিযুক্তকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়, সোমবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ পর্ব শেষে ফেরার সময় পুলিশকর্মীদের উপর হামলা করেন অভিযুক্ত। একটা সময়ে পুলিশেরই রিভলভার কেড়ে নিয়ে পালাতে যান প্রহ্লাদ। পুলিশের দাবি, তিন রাউন্ড গুলি চালান তিনি। জখম হন এক পুলিশকর্মী। তবে ওই পুলিশকর্মীর গুলি লেগেছে কি না, জানা যায়নি। পুলিশের যে গাড়িতে করে অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়া হয়, সেটিতে অবশ্য একটি গুলির দাগ রয়েছে।
ওই সূত্রের দাবি, আত্মরক্ষার জন্য চার রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশও। পুলিশের পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয় প্রহ্লাদের। মৃতের ভাই জানান, সোমবার মাঝরাতে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিল। বাবা-মাকে ‘যেতে হবে’ বলে ডেকে নিয়ে যায় পুলিশ। সকালে শুনলেন, দাদা ‘এনকাউন্টারে’ নিহত। ময়নাতদন্তের জন্য প্রহ্লাদের দেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
রবিবার একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল প্রতিবেশীর বাড়ির পিছনে। প্রাথমিক তদন্তের পর মেয়েটির দূর সম্পর্কের আত্মীয় প্রহ্লাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের অনুমান, মেয়েটিকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ওই যুবক। কিশোরী তাতে রাজি না হওয়ায় ভারী কিছু দিয়ে তার মাথায় মারেন। মেয়েটি জ্ঞান হারালে, তার উপরে অত্যাচার চালানো হয়। মেয়েটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিলেন ওই যুবক। তাঁর শরীরে ধস্তাধস্তি, নখের আঁচড় ইত্যাদি দেখা গিয়েছে বলে দাবি পুলিশ সূত্রের। সোমবার মাঝরাতে ধৃতকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে পুলিশ।
গত শনিবার গাইঘাটা থানা এলাকার বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরী বাড়ির কাছেই আয়োজিত একটি জলসা দেখতে গিয়েছিল। তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সদস্যেরাও ছিলেন সেখানে। জলসা অনেক রাত পর্যন্ত চলে। তার পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ কিশোরীর কাছে একটি ফোন এসেছিল। ফোন পেয়ে সে অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তার পর আর ফেরেনি। রাতে তাকে খুঁজে না পেয়ে চিন্তায় ছিল পরিবার। প্রায় সারা রাত খোঁজাখুঁজি চলে। শেষে রবিবার সকালে উদ্ধার হয়েছিল কিশোরীর বিবস্ত্র ক্ষতবিক্ষত দেহ। পরিবারের দাবি, তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় রবিবারই ওই পরিবারের আত্মীয় প্রহ্লাদকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
