ডিএসইর অযাচিত হস্তক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না পুঁজিবাজার
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না পুঁজিবাজার। ফলে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে টানা পতনে আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ছে পুঁজিবাজার। মুলত ডিএসইর অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না পুঁজিবাজার। ফলে পুঁজিবাজারে শেয়ারের তদারকি বা সার্ভেল্যান্সের কারণে যাতে বাজারে ভীতি না ছড়ায়, সে জন্য সুনির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক সার্ভেল্যান্সের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষকে অহেতুক সার্ভেল্যান্সের বদলে তথ্যভিত্তিক সার্ভেল্যান্সের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসি ও ডিএসই সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কোম্পানির শেয়ারের বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগে বাজারে আতঙ্ক ও ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেক বিনিয়োগকারী আতঙ্কিত হয়ে বিনিয়োগ তুলে নেন; যার বড় ধরনের প্রভাব পড়ে পুঁজিবাজারের লেনদেন ও শেয়ারের দামে। কারণ, তদন্তের অংশ হিসেবে ডিএসইর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে নানা ধরনের তথ্য চেয়ে দফায় দফায় চিঠি দেওয়া হয়। তথ্য চাওয়ার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মাঝারি ও বড় বিনিয়োগকারীদের অনেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন। এ অবস্থায় তদন্ত বা তদারকির নামে যাতে বাজারে আতঙ্ক না ছড়ায়, সেটি নিশ্চিত করতে চায় বিএসইসি।
তবে নির্বাচনের পর নতুন সরকার ও নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এর ওপর ভর করে কিছুটা গতি ফিরেছিল দেশের পুঁজিবাজারে। তবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন বাস্তবে না ঘটায় এখন বাজারে দেখা দিয়েছে উল্টো চিত্র। ফলে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের ঘটনা ঘটে। যার ফলে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকেই সূচক টানা নিম্নমুখী ছিল। ফলে ১১ আগস্ট ডিএসইর প্রধান সূচক ৫ হাজার ৯০৩ পয়েন্টের ওপরে থাকলেও ২৬ অক্টোবর এসে দাঁিড়য়েছে ৫ হাজার ৩৯৯ পয়েন্ট। মুলত ২ মাসের ব্যবধানে ডিএসইতে ৫০৪ পয়েন্ট সূচকের দরপতন ঘটে।
এসময় পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচা ও অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্তকরণ এবং বাজার তদারকির নামে অতিরিক্ত নজরদারির ভয়ে বড় বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া শেয়ারদর বাড়লেই তদন্ত কমিটি গঠন ও লেনদেনের ব্যাখ্যা চেয়ে প্রতিবেদন পাঠানো এবং জরিমানার নোটিশ দেওয়ার মতো পদক্ষেপে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩৯৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯০ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৪ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৪ টির, দর কমেছে ২৫২ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৮ টির। ডিএসইতে ৪১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৫৮ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৬৯ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৫০ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৭ টির এবং ২২ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।


