বগুড়ার গাবতলীতে বিয়ের দাবিতে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বাড়িতে দুদিন ধরে অনশন করছেন এক কলেজছাত্রী।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) থেকে উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের প্রথমারছেও গ্রামে ওই শিক্ষকের বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি।
জানা গেছে, অনশনরত ওই ছাত্রী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক ইনসান আলী প্রথমারছেও গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে। তিনি হোসেনপুর মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক।
ওই ছাত্রী বলেন, প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস আগে দুই পরিবারের মধ্যে তার বিয়ের আলোচনা চূড়ান্ত হয়। পরে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে তার বাড়িতে বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। রেজিস্ট্রির পর কনেপক্ষের অর্থায়নে বিয়ের প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও করা হয়। তবে কিছুদিন পর ইনসান আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা বিয়েতে আর রাজি নন বলে জানান।
ওই ছাত্রী আরও বলেন, বিয়েতে রাজি না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তাকে সুন্দর নন, উচ্চতা কম এমন বিভিন্ন কারণ দেখানো হয়। এ অবস্থায় বিয়ের দাবিতে গত ২৪ অক্টোবর থেকে তিনি ইনসান আলীর বাড়িতে অবস্থান করছেন।
তবে ইনসান আলী দাবি করেন, ওই ছাত্রীর বয়স ১৭ বছর। তিনি বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে কীভাবে সরকারি আইন অমান্য করবেন এ কারণে তিনি তাকে তালাক দিয়েছেন। এর পরও তার ও পরিবারের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে ওই ছাত্রী অনশন করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা গাবতলী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ অক্টোবর রাতে থানার তদন্ত কর্মকর্তা আবু মুসা সরকার ও উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদত হোসেন উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে বৈঠক করেন। তবে বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি।
গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
