ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পারস্য উপসাগর থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। এর প্রভাবে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৯৭ ইউরো ছাড়িয়েছে। ২০২২ সালের পর এই প্রথম গ্যাসের দাম এতটা বাড়ল।
এমন অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় শীত মৌসুমে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। একসময় বিশ্বে মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসত এই অঞ্চল থেকে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখন এ সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কম।
আনাদোলু বলছে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটার দিকে ইউরোপে গ্যাসের ফিউচার চুক্তির দাম ছিল প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৯৭ দশমিক ১৫ ইউরো। গত শুক্রবারের লেনদেন শেষে থাকা দামের তুলনায় এটি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। একইসঙ্গে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর এটাই গ্যাসের সর্বোচ্চ দাম। এদিকে বাজারের ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে ইউরোপীয় গ্যাস অবকাঠামো সংস্থা (জিআইই)-এর দেয়া তথ্য। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলোর ধারণক্ষমতার মাত্র ৭৪ দশমিক ৬ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে। মৌসুমের এ সময়ের ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় এই মজুতের পরিমাণও অনেক কম।
