আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে শুরু হল এনকাউন্টারের পালা। গাইঘাটায় ধর্ষণ কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের পুলিশ এনকাউন্টারে মৃত্যুর ১২ ঘণ্টার মধ্যেই এবার মুর্শিদাবাদে বিজেপি নেতা সুজিত মণ্ডল খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শামাউল হকের মৃত্যু হল এনকাউন্টারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ধৃত শামাউল হককে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েছিল পুলিশ ও সিআইডির একটি যৌথ দল। সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান ডাকবাংলো সংলগ্ন এলাকা, যেখানে সুজিত মণ্ডলকে খুন করা হয়েছিল বলে পুলিশের অনুমান, সেখানেই নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনাস্থলেই পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে শামাউল। পুলিশের সার্ভিস রিভলবার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে সে। বাধা দিতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণের চেষ্টা করে অভিযুক্ত। সেই সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা শামাউলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে, এনকাউন্টারে মূল অভিযুক্তের মৃত্যুর খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে নিহত সুজিত মণ্ডলের পরিবার। নিহতের স্ত্রী সুমনা মণ্ডল বলেন, "আমার স্বামীকে যারা নৃশংসভাবে খুন করেছে, তাদের এভাবেই শাস্তি দেওয়া হোক। শামাউল হকের এনকাউন্টারে আমি খুব খুশি। কিন্তু আরও দু'জন অভিযুক্ত রয়েছে, আমি চাই তারাও যাতে শাস্তি পায়।"
নিহতের ভাই সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, "শুধু শামাউল নয়, একজন মহিলা এবং আরও একজন পুরুষ এই খুনের সঙ্গে জড়িত। এরা সকলে মিলে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আমি প্রশাসনকে কৃতজ্ঞতা জানাই যে তারা অন্তত একজন অভিযুক্তকে শাস্তি দিয়েছে। তবে বাকি দু'জন শাস্তি পেলে তবেই আমার ভাইয়ের আত্মা শান্তি পাবে। যেখানে আমার ভাইকে খুন করা হয়েছে, সেখানেই ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য পুলিশ অভিযুক্তকে নিয়ে যায় এবং সেখানেই তার এনকাউন্টার হয়েছে। আমার ভাই যেখানে মারা গেছে, সেখানেই খুনির মৃত্যু হয়েছে ভেবে আমি খুশি।"
উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর ফরাক্কার বল্লালপুর ঘাট সংলগ্ন গঙ্গা থেকে উদ্ধার হয় ধুলিয়ান পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিজেপি নেতা সুজিত মণ্ডলের দেহাংশ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৮ আগস্ট একটি ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন সুজিত। তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের তরফে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পরে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সুজিতকে খুন করা হয়েছে।
এই ঘটনায় পুলিশ তিন জনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতেরা হলেন শামাউল হক, জানি শেখ এবং তাজফিরা বিবি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সুজিত মণ্ডলের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল শামাউল হকের। দু'জনেই সুদের টাকা খাটানোর ব্যবসা করতেন। সম্প্রতি সুজিত একটি বড় অঙ্কের টাকা শামাউলকে ধার দিয়েছিলেন, যা শামাউল ফেরত দিচ্ছিল না। সেই টাকা ফেরত চেয়ে বারবার চাপ দিচ্ছিলেন সুজিত। তা থেকেই দু'জনের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। পুলিশের অনুমান, সেই বিবাদের জেরেই জানি শেখ এবং তাজফিরা বিবিকে সঙ্গে নিয়ে সুজিতকে খুন করে শামাউল। প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হলে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিআইডির হাতে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তরফে নিহতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
