
ছবি: পিএমও
চার দিনব্যাপী সরকারি সফরের প্রথম দিনে জাপানের রাজধানী টোকিওর ঐতিহাসিক ইম্পেরিয়াল হোটেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। মৈত্রী লীগের সভাপতি ও জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জনগণের পারস্পরিক বন্ধন জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সাথে ২০০৬ সালে নিজের তৎকালীন টোকিও সফর এবং জাপানি নেতাদের সাথে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার স্মারক আলোচনার স্মৃতিচারণ করেন তাঁরা।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ তরুণ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেশটিতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের দারুণ এক অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে, যা জাপানি শীর্ষ কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে বিশেষভাবে আগ্রহী করে তুলছে। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান যে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও সহজ ও গতিশীল করতে তাঁর সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু যুগান্তকারী আইনি সংস্কারসহ শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
চলতি ২০২৬ সালে উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া ঐতিহাসিক ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ)-এর সুফল হিসেবে বাংলাদেশে সরাসরি জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে টোকিওর সুনির্দিষ্ট সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি জাপানের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) শীর্ষনেতা ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
