আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ২০২৭ সালের শেষের দিকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগ্যান। তাদের এই অনুমান সত্য প্রমাণিত হলে, ভারতের বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম মূল্যমানের বিচারে বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। সেই হিসাবে প্রতি ভরির সম্ভাব্য দাম পৌঁছাতে পারে প্রায় ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘লাইভমিন্ট’-এ ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ৬ হাজার ডলার এবং ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ৬ হাজার ৩০০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে জেপি মরগ্যান ইঙ্গিত দিয়েছে।
রেকর্ড মূল্যের চিত্র টেনে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম রেকর্ড ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৭৯ রুপিতে পৌঁছেছিল। তবে পরবর্তীতে লাগাতার দরপতনের কারণে ২৭ অক্টোবরের দিকে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪২ ৫০০ রুপিতে।
বাজার বিশ্লেষকদের অভিমত, মার্কিন বন্ডের সুদহার কমার প্রবণতা, ডলারের সূচক দুর্বল হওয়া এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো অনুঘটকগুলো স্বর্ণের বাজারকে আবারও উর্ধ্বমুখী করে তুলতে পারে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার মাধ্যম ও নিরাপদ সঞ্চয় হিসেবেও এই মূল্যবান ধাতুর চাহিদা বেশ জোরদার।
অবশ্য স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের এই দরপতন বা দরবৃদ্ধির সূচক কিছুটা অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হারের নীতি, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বাজার নিয়মিত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে বৃদ্ধির পূর্বাভাস থাকলেও তা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
উল্লেখ্য, ভারতীয় বাজারে স্বর্ণের সম্ভাব্য হিসাবকে ২৭ অক্টোবরের বিনিময় হার অনুযায়ী রূপান্তর করে ভরিপ্রতি ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এটি মূলত একটি গাণিতিক ধারণা, যা বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারের জন্য কোনো সরাসরি পূর্বাভাস নয়। কারণ শুল্কনীতি, আমদানি খরচ, স্থানীয় চাহিদা ও মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারের পার্থক্যের কারণে বাংলাদেশে স্বর্ণের মূল দর ভিন্ন হতে পারে।
সূত্র: লাইভমিন্ট