Published on
:
2 min read
পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে ফের বড় মোড়। বন্ধু নেতানিয়াহুর হয়ে প্রচারে নামলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইজরায়েলের আসন্ন হাই-ভোল্টেজ সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে জোরালো সওয়াল মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ইরান যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সংঘাতের আবহে নেতানিয়াহুর পিঠ চাপড়ে তাঁর স্পষ্ট বার্তা— দুই দেশের যৌথ লক্ষ্য পূরণে এই লড়াইয়ের ‘কাজ শেষ করতেই হবে’। তার জন্য নেতানিয়াহুর জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে যুক্তি দিয়েছেন ট্রাম্প।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই খোলাখুলি সমর্থন আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইজরায়েলি ভোটারদের উচিত নেতানিয়াহুর হাত শক্ত করা। নিজের পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফের বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকেই ভোট দিন। আমরা যে কাজ শুরু করেছি, তা আমাদের একসঙ্গে শেষ করতে হবে!’
শুধু নেতানিয়াহুর প্রশংসা বা সমর্থনই নয়, ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে একরকম কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, ইজরায়েলে যদি অন্য কোনও রাজনৈতিক শক্তি বা ভুল নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসে, তবে ওয়াশিংটন আর আগের মতো পাশে দাঁড়াতে আগ্রহী হবে না। ট্রাম্পের সতর্কবার্তা, ‘যদি ইজরায়েল এমন কোনও নেতাকে বেছে নেয়— যাঁর অর্থ বিবি (নেতানিয়াহু) ছাড়া অন্য কেউ, তবে আমেরিকাকে একাই সমস্ত কাজের দায়িত্ব নিতে হবে। আর সেই কাজে আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক অস্তিত্বের এই কঠিন লড়াইয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ককে বড় হাতিয়ার করছেন নেতানিয়াহু। লিকুদ পার্টির তরফে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রচারমূলক ভিডিয়োতে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অতীতে তাঁরা ইরানকে কড়া জবাব দিয়েছেন। তাঁর দাবি, পুনর্নির্বাচিত হলে আগামী দুই বছর বা তারও কম সময়ের মধ্যে ইজরায়েলের মাথার উপর থেকে চিরতরে ‘ইরানি জুজু’ দূর করতে সক্ষম হবেন তিনি।
আগামী ২৭ অক্টোবর, অর্থাৎ মঙ্গলবার ইজরায়েলে রয়েছে এই বহুচর্চিত সাধারণ নির্বাচন। গাজা সংঘাত এবং লাগাতার ইরান যুদ্ধের আবহে তপ্ত বিশ্ব রাজনীতিও এই নির্বাচনে অন্যতম ইস্যু। এই নির্বাচনকে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন আবহে নির্বাচনের ঠিক আগে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ ইজরায়েলে জাতীয় রাজনীতির পারদ আরও অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার, ট্রাম্পের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ইজরায়েলের ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে।