Published on
:
2 min read
এই সময়, কাকদ্বীপ, কুলতলি ও হিঙ্গলগঞ্জ: মঙ্গলবার দুপুর থেকেই ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনার উপকূল এলাকায়। ডায়মন্ড হারবার-সহ সুন্দরবন উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে বৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার জেলা সদর আলিপুরে বিশেষ বৈঠক করেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক অভিষেক তেওয়ারি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলার পাঁচ মহকুমাশাসক এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। জেলাশাসক সমস্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্যোগের সঙ্গে পূর্ণিমার ভরা কটালের জেরে নদী ও সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে। জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কাও বেড়েছে। নতুন করে বাঁধ ভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্কে কাঁটা সুন্দরবনের উপকূল এলাকার বাসিন্দারা। কাকদ্বীপ, সাগর, নামখানা, ফ্রেজারগঞ্জ, মৌসুনি ও ঘোড়ামারা দ্বীপ এবং পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুরে নদী-সমুদ্রের বেহাল এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলোর উপর নজর রাখতে বলা হয়েছে সেচ দপ্তরকে।
কাকদ্বীপে মহকুমাশাসকের দপ্তর-সহ উপকূল এলাকার সমস্ত ব্লক অফিসগুলোতে কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সাইক্লোন সেন্টার এবং স্কুল বাড়িগুলোকে। কাকদ্বীপের ব্লক কৃষি আধিকারিক মিলন রায় বলেন, 'শিস ধরা ধান গাছগুলিকে একটা লাইন করে দড়ি অথবা বাঁশ দিয়ে বেঁধে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাতে ধানগাছ জমা জলে না পড়ে।'
ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে কুলতলির দেউলবাড়ি-দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের। মাতলা নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ চরম দুশ্চিন্তায়। সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে জেসিবি দিয়ে যে সব জায়গায় বাঁধের অবস্থা খারাপ, সেখানে মেরামতির কাজ চলছে। এ দিন কৈখালিতে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। কুলতলি বিডিও অফিসে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতকে যুক্ত করা হয়েছে যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মানুষকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী ত্রাণ শিবির বা স্কুল বাড়িতে নিয়ে যাওয়া যায়। সুন্দরবনের গোসাবা, বাসন্তী ও ক্যানিং-১ ব্লক প্রশাসনও সতর্ক রয়েছে।
হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে বসিরহাট মহকুমার সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামে। নদীপথে চলছে মাইকে প্রচার। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ফ্লাড শেল্টার। ছুটি বাতিল করে বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ, ন্যাজাট, সন্দেশখালি, মিনাখাঁয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে স্পিডবোট, যন্ত্রচালিত নৌকা এবং গাড়িতে করে প্রচার চালানো হচ্ছে। মৎস্যজীবী ও সাধারণ যাত্রীদের বলা হচ্ছে কোনও অবস্থাতেই নদীপথে না যেতে। ন্যাজাট, সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ-সহ আশপাশের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।