ভারতের বেঙ্গালুরুতে অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (এডিএ) এক জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুর পেছনে দীর্ঘ দিনের কর্মক্ষেত্রের চাপ ও মানসিক উদ্বেগের ভূমিকা থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
মৃত বিজ্ঞানীর নাম শরদ কাটিয়ার (৪৭)। তিনি এডিএর প্রোগ্রামিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং ভারতের লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এলসিএ) এমকে-২ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২১ অক্টোবর বেঙ্গালুরুর সীঘেহাল্লিতে একটি আবাসিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, এক মাসের বেশি সময় ধরে কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ছিলেন কাটিয়ার। এতে তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেন এবং বিষণ্নতাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হন। গত ২১ অক্টোবর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সেসে (নিমহ্যানস) মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে তাকে ওষুধ দেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করেছে। ২২ অক্টোবর ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং তার স্ত্রী ও মা-বাবার বক্তব্য গ্রহণ করেন তদন্তকারীরা। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
এডিএর প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ রাজেন্দ্র বলেন, কাটিয়ারের কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি অবগত ছিল না। তার কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গেও কথা বলে একই তথ্য পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
রাজেন্দ্র বলেন, প্রকল্পের সময়সীমা মেনে কাজ করতে চাপ থাকলেও কর্মীদের অতিরিক্ত দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য করা হয় না। কর্মীদের মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কর্মসূচিও আয়োজন করেছে।
