আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার রেসে খুব ভালোভাবেই টিকে আছে বাংলাদেশ দল। সে লক্ষ্য ছুঁতে কিছু সমীকরণ থাকছে তাদের সামনে। আপাতত সেসব নিয়ে না ভেবে ঘরের মাটিতে শুরু হতে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দিকেই এখন পূর্ণ মনোযোগ টাইগারদের। এ দুটি টেস্ট ম্যাচ জিতলে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবেন লাল-সবুজরা। প্রথম টেস্টের আগের দিন গতকাল মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কথা বলেছেন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল, মোহাম্মদ আশরাফুল ইস্যুতেও। বিস্তারিত-
াউইন্ডিজ সিরিজের প্রস্তুতি কেমন হয়েছে?
শান্ত : আমার মনে হয়, প্রস্তুতির দিক থেকে খেলোয়াড়েরা ভালো অবস্থানে আছে। যতটুকু সময় পেয়েছে, যার যে জায়গায় প্রস্তুতি নেওয়া দরকার ছিল, সে তা নিতে পেরেছে। প্রতিপক্ষ দল কেমন প্রস্তুতি নিয়েছে, তা নিয়ে আমি খুব বেশি চিন্তা করছি না। আমরা কতটা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ম্যাচ খেলতে পারি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
াটেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের বিষয়টি জড়িত থাকায় এ সিরিজে আপনাদের চাপটা বেশি থাকবে কিনা?
শান্ত : এটা আমার কাছে প্রেসার না, ইন্সপায়ারিং। প্রেসার বলব না এই কারণে, আমরা যখন এই প্র্যাকটিস শুরু করেছি বা এই সিরিজটা নিয়ে যখনই আমরা কথা বলেছি, আমরা চিন্তা করেছি যে গত কয়েকটা সিরিজে বা গত কয়েক বছর ধরে আমরা টেস্ট ক্রিকেটটা কীভাবে খেলছি? আমরা বাড়তি কোনো কিছু করতে চাই না, আমরা আমাদের প্রসেসটা ফলো করতে চাই। আমরা যেই জিনিসটা পারি, ওই জিনিসটাই হান্ড্রেড পার্সেন্ট দিয়ে করতে চাই। সো, এখানে আমি কারও কাছ থেকে এক্সট্রা কোনো এফোর্টও চাই না।
এটা অনেক ইম্পর্টেন্ট সিরিজ, অবশ্যই। কিন্তু আমরা আমাদের প্রসেসটা ফলো করে যেভাবে রেজাল্ট পাচ্ছি, ওই জিনিসটাই জাস্ট এক্সিকিউট করতে চাই।
াদলে ব্যাটারদের কাছে প্রত্যাশা কী থাকবে?
শান্ত : এক্সপেরিয়েন্স ব্যাটাররা ব্যাটিং করছে, অনেক বছর ধরে খেলছে। সো, অবশ্যই এটা তো ভালো লাগার বিষয় এবং ক্যাপ্টেন হিসেবে আমার মনে হয় যে একটা অবশ্যই স্বস্তির একটা জায়গা, কারণ এক্সপেরিয়েন্স ব্যাটার থাকলে তারা তাদের খেলাটা জানে, তাদের রোলটা আরও ভালোভাবে পালন করতে পারে। অবশ্যই এটা একটা ভালো বিষয়।
াএকাধিক ভালো মানের পেসার থাকায় একাদশ সাজাতে মধুর সমস্যায় পড়তে হয় কিনা?
শান্ত : পেস বোলারদের ক্ষেত্রে মধুর সমস্যা বা সমস্যা না, এটা আসলে বলতে চাই না। কারণ পেস বোলাররা জানে যে কে কখন খেলবে এবং তারা খুবই ক্লিয়ার, কোন কন্ডিশনে কখন কে খেলবে। খুব ভালো জিনিস যে প্রত্যেকটা সিরিজের জন্য যারা স্কোয়াডে থাকে, প্রত্যেকটা ম্যাচ খেলার জন্য রেডি থাকে।
াকেমন উইকেট চান?
শান্ত : অবশ্যই আমাদের এখন দেখেন পেস এবং স্পিন দুই দিকেই আমরা ভালো অবস্থানে আছি। সো, এটা আমি এখানে বলতে চাই না। আমি বিশ্বাস করি যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রেস কনফারেন্স দেখতে পারে। সো, আমার মনে হয় যে কন্ডিশনটা আমাদের যেটা স্যুট করবে, ওই অনুযায়ী আমরা যাব।
াটেস্টে বাংলাদেশ দল ভালো করছে। এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে অনেক। কেমন লাগে?
শান্ত : সবাই টেস্ট নিয়ে কথা বলছে, এটা অবশ্যই ভালো লাগছে। এই কালচার ২-৩ বছর আগেই শুরু হয়েছে আমি বিশ্বাস করি। এটা ধরে রাখতে হবে। অনেক ভালো করার সুযোগ আছে। আমরা ভালো করছি কিন্তু আমরা খেলোয়াড়রা খুশি না। আমাদের পা মাতিতেই আছে। কীভাবে আরও ভালো করতে পারি বেশি এক্সাইটেড না হয়ে। যা-ই অর্জন করেছি, তা যথেষ্ট না। আমাদের আরও উন্নতির সামর্থ্য আছে।
াহঠাৎ করে আশরাফুলকে ব্যাটিং কোচ থেকে বাদ দেওয়াটা এ সিরিজে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা?
শান্ত : প্রত্যেক কোচের সঙ্গে কাজ করতে উপভোগ করেছি। আশরাফুল ভাই এক বছরের মতো ছিল। যতটুকু কাজ করেছেন ভালো কাজ করেছেন। অভিজ্ঞ ছিলেন, অনেক কিছু শেয়ার করেছেন। ব্যাটিং কোচের রিপ্লেসমেন্টে যিনি এসেছেন তিনি কিছু দিন আগেও ড্রেসিংরুমে ছিলেন। তাই এখানে খুব একটা প্রভাব পড়বে না। তার সঙ্গেও সবাই অতীতে অনেক কাজ করেছি। মানিয়ে নিতে কোনো সমস্যা নেই। সালাউদ্দিন স্যার ভালো কাজ করছেন। আশরাফুল ভাইয়ের সঙ্গেও যতটুকু কাজ করেছি উপভোগ করেছি। উনি উনার কাজ ভালোভাবে করেছেন।
াটেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলা নিয়ে ভাবনা কী আপনার?
শান্ত : (ফাইনাল) অনেক দূরে। এখনও চিন্তা করছি না। ভালো খেলতে থাকলে অবশ্যই অর্জন করা সম্ভব। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ, সেশন বাই সেশন কত ভালো খেলতে পারি। ছোট টার্গেট নিয়ে খেলছি। প্রিপারেশনের সময় এভাবেই কথা হয়। একেক ম্যাচ, একেক ঘণ্টা...।
