চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নেজামপুরের একটি পাকা রাস্তা ভেঙে পুকুরে পড়ে যাওয়া চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গ্রামবাসীরা। ওই রাস্তা পাড়ি দিয়ে শিক্ষার্থীদের যেতে হয় বিনোদ বিহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় গ্রামবাসীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি উপজেলার নেজামপুর বাজার সংলগ্ন গুয়াবাড়ি দিঘিপাড়া গ্রামের মধ্যে অবস্থিত। এই গ্রামেই রয়েছে বিদোন বিহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বিদ্যালয় যেতে পুকুরটির অবস্থান।
জানা যায়, পূর্ব থেকেই পুকুরটিতে প্রটেকশন ওয়াল না থাকায়, পানির কারণে পুকুরে ভেঙে পড়ে রাস্তাটি। ২০২২ সালে এটি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশ হলে, নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ইউনিয়ন পরিষদ এবং পুকুর মালিকের যৌথ সহযোগিতায় প্রটেকশন ওয়াল বাঁধা হলেও এখন পর্যন্ত মেরামত হয়নি এই রাস্তাটি। জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে রাস্তাটি।
রাস্তা তো নয়, দেখলে মনে হয় যে, কোনো নদী ভাঙন এলাকা। বিভিন্ন ঘাস-গাছ গাছড়ায় দখল করে ফেলেছে রাস্তাটি। রাতের বেলা চলাচল করাটা যেন আরেক বিপদ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নেজামপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দিঘিপাড়া গ্রামের এই রাস্তাটি নাচোল-আমনুরা প্রধান সড়কের নেজামপুর বাজার থেকে কয়েকশ ফুট দক্ষিণ দিক থেকে শুরু হয়ে পূর্বদিকে গ্রামের মধ্য দিয়ে স্কুল ঘেঁষে নেজামপুর টু হাটবাকইল রাস্তায় মিলিত হয়েছে। রাস্তাটির দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার। রাস্তাটি পুকুরের পাশে দিয়ে নির্মিত হওয়ায় প্রায় ৪০০ ফুট ভেঙে পড়েছে। ৮ ফুটের রাস্তাটি কোনো কোনো জায়গায় ৬-৭ ফুট পর্যন্ত ভেঙে পুকুরে পড়েছে।
ফলে এই রাস্তা দিয়ে কোনো ধরনের গাড়িঘোড়া চলাচল করতে পারে না। ফলে বাধ্যে হয়েই এই গ্রামের শতাধিক পরিবারকে ঝুঁকির মধ্য দিয়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সবচাইতে বেশি ঝুঁকিপূর্ণের মধ্যে পড়েছে স্কুলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। হেঁটেই এই পথ পেরিয়ে তাদের স্কুলে যেতে হয়। যানবাহন চলাচলের কোনো পথ নেই। বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় বর্ষাকালে। ওই সময় অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও দুশ্চিন্তায় থাকেন, পা পিছলে পড়ে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।
দিঘিপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক কবির আলী বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির কথা আমাদের মেম্বার সহযোগিতা করে মেরামত করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তিনি একবছর পূর্বে মারা যান। তার পূর্বে অনেকবার ইউএনওকে বলেও কোনো লাভ হয়নি। কয়েক বছর আগে একটি রিপোর্ট হওয়ার পর প্রটেকশন ওয়াল হলেও ভাঙা রাস্তাটি ভেঙেই রয়েছে।
তিনি বলেন, ৪০০ফুট রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় এখন ১ কিলোমিটার ঘুরে বাজারে যেতে হয়। আমি সরকার কাছে আকুল আবেদন করছি রাস্তাটি যেন সংস্কার করে দেন। ওই গ্রামের দুলালের স্ত্রী তাহেরা বেগম বলেন, আমার বাড়ির সামনে এই ভাঙা রাস্তাটি। একদিকে নিজেদের সমস্যা, অন্যদিকে স্কুলের ছোট ছোট শিশুদের আরও অনেক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তো সবার পক্ষ থেকে সরকার এবং প্রতিপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, রাস্তাটি যেন দ্রুত মেরামত করে দেন।
বিনোদন বিহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা হেঁটে আসা ছাড়া, কোনো ধরনের যানবাহন ব্যবহার করতে পারে না। বিশেষ করে বর্ষাকালে দুশ্চিন্তায় থাকি যে, ছোট ছোট শিশুরা কোনোভাবে যদি ধাকাচোপা লেগে পড়ে যায়, তাহলে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। আবার মাঝে মধ্যে দেখি যে, পড়ে যাওয়ার কারণে পোশাকে কাদা নিয়ে স্কুলে আসতে হয় তাদের। তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থী, গ্রামবাসীসহ পথচারীদের দুর্ভোগ কমাতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, রাস্তাটি মেরামতে যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
নেজামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল হক বলেন, রাস্তাটি যখন হয়, প্রটেকশন ওয়াল না বেঁধে এই রাস্তাটি পাকা করণ হয়েছিল। প্রায় ৫ বছর পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদ ও এলজিইডি মিলে প্রটেকশন ওয়াল বেঁধে দিয়েছিলাম কিন্তু রাস্তাটি এখন পর্যন্ত মেরামত হয়নি। আমি উপজেলা এলজিইডি ইঞ্জিনিয়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি রাস্তাটি যেন দ্রুত মেরামত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি ইঞ্জিনিয়ার সাদিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি ছুটিতে আছি, রাস্তাটির বিষয়ে জানা নেই। অফিসে এসে রাস্তাটি দেখার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
