রাজধানীর বনানী ও ভাটারা থানায় পৃথক দুটি স্থান থেকে এক যুবক ও এক নারী শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে বনানীতে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে বিক্রম ওরফে বাবু (২০) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ভাটারা এলাকায় স্বামী-স্ত্রী কলহের জেরে সাবিনা ইয়াসমিন (৪২) নামের এক পোশাক শ্রমিক আত্মহত্যা করেছেন।
বনানীতে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত যুবকের আত্মহত্যা
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর বনানী থানাধীন কড়াইল বউবাজার এলাকার ফরিদ সাহেবের ভাড়া বাসায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বিক্রমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত বিক্রম অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন এবং এ নিয়ে প্রায়ই তার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হতো।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইউসুফ আলী জানান, গত রাতে অনলাইন জুয়ার বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে বিক্রম তার মাকে ঘর থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দরজা লাগিয়ে দেন। পরবর্তীতে রাত ২টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে যেকোনো এক সময়ে ঘরের ফ্যানের হুকের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি গলায় ফাঁস দেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতের ভাই সজীব জানান, তার ভাই ও মা একসঙ্গে থাকতেন। জুয়া খেলা নিয়ে মায়ের সঙ্গে বিক্রমের প্রায়ই কলহ হতো এবং মা তাকে বিষয়টি নিয়ে কান্নাকাটি করতেন। ঘটনার রাতেও ঝগড়ার পর বিক্রম মাকে ঘর থেকে বের করে দিলে মা তাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। এর কিছুক্ষণ পরই ভাইয়ের আত্মহত্যার খবর পান তিনি।
নিহত বিক্রম শেরপুর জেলার সদর থানার গোলপাড়ার কোহাকান্দা গ্রামের মৃত সেলিমের ছেলে। পেশায় তিনি শ্রমিক ছিলেন এবং পরিবার নিয়ে কড়াইলে ভাড়া থাকতেন।
ভাটারা এলাকায় পোশাক শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
এদিকে, রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বড়বাড়ি এলাকায় আরেকটি ঘটনায় সাবিনা ইয়াসমিন (৪২) নামের এক নারী পোশাক শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিলকিস আক্তার জানান, রবিবার রাতে খবর পেয়ে বড়বাড়ির একটি বাসা থেকে দরজা ভেঙে সাবিনার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ও স্বজনদের মুখে জানা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর কলহের জেরে নিজ কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের মেয়ে উর্মি জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার নৈয়ারীকুড়া এলাকায়। সাবিনা তার দ্বিতীয় স্বামী রেজাউল করিমকে নিয়ে ভাটারা ছোলমাইদ হাই স্কুল সংলগ্ন বড়বাড়ি এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতেন এবং পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণও জানা যাবে।
