একদিকে স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল বোর্ড, ট্যাবলেট। অন্যদিকে এক বালতি বালি আর ছোট্ট একটি কাঠি। শিশুদের পড়াশোনা শেখানোর জন্য দামি সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই, তা-ই যেন আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন কেরলের এক প্রবীণা। স্নেহের নাম ‘আশাত্তি আম্মুম্মা’। বালির উপর ইংরেজি অক্ষর লিখে ছোটদের পড়ানোর তাঁর অভিনব পদ্ধতি এখন মন জয় করছে নেটিজেনদের।
ইনস্টাগ্রামে ‘Mom of Safaachiii’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিয়োটি ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একদল ছোট ছোট পড়ুয়া সার দিয়ে বসে রয়েছে। তাদের সামনে রয়েছেন আশাত্তি আম্মুম্মা। হাতে রয়েছে বালতি ভর্তি বালি। প্রথমে তিনি মাটির উপর বালি ছড়িয়ে দেন। তার পর একটি ছোট কাঠির সাহায্যে বালির স্তর সমান করে নেন, যাতে তার উপর সহজেই লেখা যায়।
এর পর সেই বালির উপর কাঠি দিয়ে ইংরেজি অক্ষর লিখতে শুরু করেন তিনি। শুধু সাধারণ অক্ষর নয়, ইংরেজি কার্সিভ লেখার ধরনও শিশুদের দেখিয়ে দেন। তাঁর লেখা দেখে পড়ুয়ারাও নিজেদের আঙুল দিয়ে বালির উপর অক্ষর লেখার অনুশীলন করে। এ ভাবেই কোনও খাতা, পেন বা পেনসিল ছাড়াই চলে পড়াশোনা।
ছোটদের হাতের লেখা শেখানোর ক্ষেত্রে বারবার অনুশীলন জরুরি। কিন্তু খাতায় লিখতে গিয়ে ভুল হলে অনেক সময় শিশুরা হতাশ হয়ে পড়ে। বালির উপর লেখার ক্ষেত্রে সেই সমস্যা অনেকটাই কম। ভুল হলে বালি সমান করে আবার নতুন করে লেখা যায়। একই অক্ষর বারবার লেখার সুযোগও থাকে। ফলে ভুল করার ভয় না পেয়ে শিশুরা নিজের মতো করে অনুশীলন করতে পারে।
এই পদ্ধতিতে শেখার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে শিশুরা। শুধু শিক্ষকের লেখা দেখে মুখস্থ করা নয়, নিজের আঙুল দিয়ে অক্ষর তৈরি করার মাধ্যমে শেখার অভিজ্ঞতা আরও বাস্তব হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ছোটদের প্রাথমিক লেখাপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এমন হাতে-কলমে অনুশীলন আকর্ষণীয় হতে পারে।
বর্তমানে পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। অনেক স্কুলেই স্মার্ট বোর্ড, ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী এবং বিভিন্ন অ্যাপের সাহায্যে পড়ানো হয়। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে আশাত্তি আম্মুম্মার এই পদ্ধতি মনে করিয়ে দেয়, শেখার জন্য সব সময় আধুনিক সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন ধৈর্য, যত্ন এবং সঠিকভাবে শেখানোর ইচ্ছা।
বালির উপর বারবার লেখা যায় বলে কাগজের ব্যবহারও কমে। একই সঙ্গে শিশুদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি হয়। অবশ্যই এই পদ্ধতি প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা বা বই-খাতার বিকল্প নয়। বরং প্রাথমিক শিক্ষার অনুশীলনকে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক করে তোলার একটি উপায়। আশাত্তি আম্মুম্মার পড়ানোর ধরন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর ধৈর্য, সহজ পদ্ধতি এবং শিশুদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশে যাওয়ার বিষয়টি নজর কেড়েছে অনেকের। কেউ তাঁর অভিনব শিক্ষাপদ্ধতির প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ মনে করিয়ে দিয়েছেন, পড়াশোনার জন্য সব সময় দামি উপকরণের প্রয়োজন হয় না।
