ইউরেনিয়াম বহণকারী গাড়িবহর গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
-->ছয় দিনের ব্যবধানে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্পে এসে পৌঁছেছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে সড়ক পথে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে।
এর আগে সোমবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামবাহী কার্গো বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে কঠোর নিরাপত্তায় সড়ক পথে মঙ্গলবার সকালে রূপপুরে এসে পৌঁছায় ইউরেনিয়াম। বিষয়টি নিশ্চত করেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ডা. মো. কবীর হোসেন।
প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম চালান ৩ ও দ্বিতীয় চালান রূপপুরে আসে ২১ অক্টোবর। আগামী বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি লোডিং শুরু হতে পারে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রে জানা গেছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, কার্গো বিমানের মোট সাতটি চালানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আসবে রূপপুরে। এ ছাড়া প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দুটি কার্গো বিমানে রূপপুরে আসবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মোট নয়টি চালানে ইউরেনিয়াম জ্বালানি আনা হবে।
এদিকে প্রকল্প সুত্রে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। বায়েরার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপ ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপে প্রবেশ করবে প্রথম ইউনিটট।
রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় গত সপ্তাহে রাশিয়ার রাষ্টীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে। প্রতিনিধিদলটি বিজ্ঞান রূপপুর প্রকল্প পরিদর্শন করে ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মন্ত্রীকে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়সহ সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। সাক্ষাতের বিষয়টি বাংলাদেশের রাশিয়ার দূতাবাস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে জানায়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ২০-২৩ অক্টোবর পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে বাংলাদেশ সফর করে। এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও ফিজিক্স টেস্টও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বায়েরার অনুমোদন পাওয়ার পর প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হবে। পরবর্তী কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে।
রূপপুর প্রকল্পের মাধ্যমে পরমাণুসমৃদ্ধ দেশগুলোর এলিট প্ল্যাটফর্ম বা নিউক্লিয়ার ক্লাবের সদস্য হয়েছে বাংলাদেশ। প্রকল্পটির দুটি রি-অ্যাক্টর থেকে উৎপাদিত হবে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে কারিগরি সহায়তা ও আর্থিক ব্যয়ের বেশিরভাগই এসেছে রাশিয়া থেকে। প্রকল্পটির মূল নকশাকার ও প্রধান ঠিকাদার হিসেবে নির্মাণকাজের দায়িত্ব পালন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ। রাশিয়ার দেওয়া প্রকল্প ব্যয়ের ৯০ শতাংশ সরবরাহ ঋণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প এটি।
জাহাঙ্গীর হোসেন/এসএন
