প্রায় দু’মাসেরও বেশি সময় বিগবসের ঘরে কাটিয়েছেন অভিনেতা ভরত কল। প্রতিযোগিতার শুরুতেই বাড়ির প্রথম ক্যাপ্টেন হয়েছিলেন তিনি। হাসি, ঠাট্টা, মনোমালিন্য, মতবিরোধ— নানা অনুভূতির ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে বাড়ির অভিভাবক হয়ে উঠেছিলেন ভরত। তাই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন তাঁর বিদায়ে মন খারাপ হয়েছিল বাড়ির অন্য সদস্যদেরও। যেন মাথার উপর থেকে ছাদ সরে গেল!
বিগবসের বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাতে ফোন পেয়েই আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে কথা বলেছিলেন ভরত। জানিয়েছিলেন, দু’মাসে সাত কেজি ওজন কমেছে তাঁর। এত দিন যাঁদের সঙ্গে এক ছাদের নীচে কাটিয়েছেন, তাঁদের ছেড়ে আসতে মন খারাপ হয়েছে। তবে দীর্ঘ দিন পরিবার থেকে দূরে থাকার পর আপাতত কয়েক দিন বিশ্রাম নিতে চান অভিনেতা।
ভরতের বিদায়ের আশঙ্কা কি আগে থেকেই করেছিলেন স্ত্রী জয়শ্রী মুখোপাধ্যায়? দর্শকের কাছে স্বামীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি। চেয়েছিলেন, আরও কিছু দিন বিগবসের ঘরে থাকুন ভরত। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হল অভিনেতাকে।
এ বার স্বামীর বাড়ি ফেরার পর সমাজমাধ্যমে নিজের মনের কথা উজাড় করে দিলেন জয়শ্রী। লিখলেন, “আমার যুদ্ধ শেষ হল। যদিও মানতে পারছি না তুমি বিগবসে নেই। এখনও মনে হচ্ছে বিগবস অন করতে হবে, তুমি কী করছ দেখতে হবে।”
ভরত যখন বিগবসের অন্দরে নিজের মতো করে লড়াই চালিয়েছেন, তখন বাইরে থেকে সেই যাত্রার সঙ্গী হয়েছেন জয়শ্রীও। স্বামীর প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়া ঘিরে উদ্বেগ, অপেক্ষা, দর্শকের ভোটের আবেদন— সব মিলিয়ে তাঁরও সময়টা কম লড়াইয়ের ছিল না। সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কে প্রকৃত বন্ধু, বিপদের দিনে কারা পাশে থাকেন, তা-ও চিনেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভরতকে বিগবসের বিজয়ী হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন জয়শ্রী। সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও তাঁর আক্ষেপের মাঝেই রয়েছে অন্য রকম প্রাপ্তি। জয়শ্রীর মতে, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মানুষ ভরত কলকে আরও ভাল করে চিনতে পেরেছেন। অভিনেতা হিসাবে নয়, মানুষ ভরত কেমন, তা বোঝার সুযোগ পেয়েছেন দর্শক।
যাঁরা ভরতের অনুপস্থিতিতে তাঁর পরিবারের পাশে থেকেছেন, যাঁরা জয়শ্রীর অনুরোধে অভিনেতাকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বিগবসের বাড়িতে থাকা সকলের জন্য জানিয়েছেন শুভকামনাও।
সবশেষে স্বামীর উদ্দেশে জয়শ্রীর বার্তা, “আমার চোখে তুমিই বিগবস জয়ী।” প্রতিযোগিতার ফল যা-ই হোক, প্রিয় মানুষের কাছে জয়ী হওয়ার আনন্দ যে আলাদা, জয়শ্রীর কথাতেই যেন তা আরও এক বার স্পষ্ট।
এই প্রতিবেদনটি 'আনন্দ উৎসব' ফিচারের একটি অংশ।
