কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ভারতের কর্মসংস্থানে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা বুঝতে হলে শুধু চাকরির সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে চলবে না। বরং একটি পেশার অধীনে থাকা পৃথক কাজগুলিকে বিশ্লেষণ করা জরুরি। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এমনই মতামত তুলে ধরেছেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) মাদ্রাজের গবেষকেরা। তাঁদের মতে, এআইয়ের প্রভাব সব পেশায় এক রকম হবে না। কাজের ধরন, শিল্পক্ষেত্র, প্রযুক্তি ব্যবহারের খরচ এবং নীতির উপর নির্ভর করবে এই পরিবর্তন।
আইআইটি মাদ্রাজের ওয়াদওয়ানি স্কুল অফ ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (ডব্লিউএসএআই) অধীন সেন্টার ফর রেসপনসিবল এআই (সেরাই) প্রকাশ করেছে ‘হাউ এআই ইজ় রিকনফিগারিং ওয়ার্ক ইন ইন্ডিয়া’ শীর্ষক গবেষণাপত্র। সম্প্রতি আয়োজিত ‘ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভ অন এআই গভর্ন্যান্স ২০২৬’-এ এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশ্যে আনা হয়।
গবেষকদের মতে, এআই মানুষের কাজের কিছু অংশের দায়িত্ব নিতে পারলেও তার অর্থ এই নয় যে গোটা চাকরিটিই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। একটি পেশার মধ্যে এমন অনেক কাজ থাকে, যেগুলির কিছু এআইয়ের সাহায্যে করা সম্ভব। আবার কিছু ক্ষেত্রে মানুষের বিচারবুদ্ধি, অভিজ্ঞতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অপরিহার্য।
গবেষণাপত্রে মানুষ ও এআইয়ের যৌথ কাজের দু’টি ধরন তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম ক্ষেত্রে, কাজের বড় অংশই এআই করবে। মানুষ মূলত এআইয়ের তৈরি ফলাফল যাচাই করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করবে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে, কাজের নিয়ন্ত্রণ থাকবে মানুষের হাতেই। দ্রুত ও সহজে কাজ সম্পন্ন করতে এআইয়ের সাহায্য নেওয়া হবে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মানুষ। কোন ক্ষেত্রে কোন ধরনের কাজের ব্যবস্থা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে কাজের প্রকৃতি এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের উপর।
গবেষণায় বলা হয়েছে, কম খরচে ব্যবহার করা যায় এমন এআই প্রযুক্তি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া পরিচালনা, হিসাবরক্ষণ এবং গুণমান যাচাইয়ের মতো ক্ষেত্রে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই ধরনের কাজে এআইয়ের ব্যবহার বাড়লে কাজের পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।
অন্য দিকে, আইনি পরামর্শ বা স্বাস্থ্যক্ষেত্রে চিকিৎসা সংক্রান্ত ছবি বিশ্লেষণের মতো জটিল কাজে উন্নত এআই প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। গবেষকদের মতে, এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার আপাতত বড় শহর বা বড় সংস্থাগুলির মধ্যে বেশি সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
গবেষকদের মতে, এআইয়ের প্রভাব মোকাবিলায় শুধু কোন কাজগুলি স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব, তা চিহ্নিত করলেই হবে না। কাজের দায়িত্ব ও পদ্ধতি কী ভাবে নতুন করে সাজানো যায়, এবং কর্মীদের পরিবর্তিত পরিস্থিতির জন্য কী ভাবে প্রস্তুত করা যায়, সে দিকেও নজর দিতে হবে।
সেই কারণে কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জন, এআই সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন ধরনের কাজের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কর্মীরা যাতে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন, তার জন্য স্পষ্ট পথ তৈরি করাও জরুরি বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
