আজকাল ওয়েবডেস্ক: কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী তাঁর জীবনের এক অত্যন্ত অন্তরঙ্গ ও আবেগময় স্মৃতি প্রকাশ্যে এনেছেন। সমাজমাধ্যম এক্স এবং ইনস্টাগ্রামে আত্মপ্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে ১৯৬৫ সালে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজের এক ছোট্ট গ্রিক রেস্তোরাঁয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা হয়েছিল। ‘দ্য ভার্সিটি’ নামের সেই রেস্তোরাঁটি ভারতীয় ও ইতালীয় পড়ুয়াদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। সেখানেই এক সাধারণ বন্ধুর মাধ্যমে রাজীবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।
সোনিয়া গান্ধীর কথায়, প্রথম দেখাতেই তিনি রাজীবের মধ্যে এক অদ্ভুত টান অনুভব করেছিলেন এবং মনে হয়েছিল এই মানুষটির সঙ্গেই তিনি জীবন কাটাতে চান। রাজীব যে সুদর্শন ছিলেন, সে কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি তাঁর শান্ত ও অমায়িক ব্যক্তিত্বই যে সোনিয়াকে সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে গিয়েছিল, তা স্পষ্ট করেছেন তিনি। সেই আলাপ থেকেই শুরু হয় বন্ধুত্ব, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এবং ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় এক গভীর ভালোবাসায়।
আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হতে চলেছে সোনিয়া গান্ধীর ৫৪৪ পাতার আত্মজীবনী ‘বিলংগিং: আ জার্নি অফ লাভ’। এই বইটির প্রথম ঝলক শেয়ার করতেই তিনি সমাজমাধ্যমে পা রেখেছেন। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, তিনি তাঁর মেয়ে তথা কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার সঙ্গে বইটির প্রথম কপি হাতে পাওয়ার আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন, মিষ্টি মুখ করছেন এবং পরস্পরকে স্নেহের আলিঙ্গনে জড়াচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে আলফ্রেড এ নফ এবং ভারতে হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া বইটি প্রকাশ করছে, যার প্রাক-বুকিং ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইতালিতে সোনিয়ার শৈশব থেকে শুরু করে কেমব্রিজে রাজীবের সঙ্গে প্রেম, ভারতে এসে সংসার পাতা—সব অভিজ্ঞতাই উঠে এসেছে এই স্মৃতিকথায়। একই সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো অপূরণীয় ব্যক্তিগত ক্ষতি কীভাবে তাঁর জীবনকে বদলে দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাঁকে ভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দাঁড় করিয়েছিল, সেই আবেগঘন ও টানাপোড়েনের যাত্রাই পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি।
