ব্যাট হাতে কারও দ্বিশতকের উদ্যাপন, কারও আবার এক ইনিংসে ছক্কার এক ডজন ফুলঝুরি। জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চতুর্থ রাউন্ডে আজ শেষ দিনটি মূলত ব্যাটসম্যানদের দখলেই ছিল। সিলেটে অমিত হাসান তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় দ্বিশতক, বগুড়ায় শাহ পরান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিকে স্মরণীয় করেছেন ১২ ছক্কায়। সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন মিম মোসাদ্দেক ও নবীন ইসলামও। তবে ব্যাটিং উৎসবের মধ্যেও ব্যতিক্রম ঢাকা বিভাগ। রাজশাহীকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে মৌসুমের প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে তারা!
রাজশাহীতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আগের দিনই নিজেদের হাতে নিয়েছিল ঢাকা। শেষ দিনে প্রয়োজন ছিল মাত্র পাঁচ উইকেট। সেই কাজ সারতে খুব বেশি সময় নেয়নি দলটি। আগের দিনের ৫ উইকেটে ২১৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা রাজশাহী শেষ পর্যন্ত ২৫৬ রানে গুটিয়ে যায়। ইনিংস ব্যবধান ও ১০৩ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ঢাকা।
দিনের শুরুতে ব্যক্তিগত ৬৪ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা সাব্বির রহমান কোনো রান যোগ না করেই ফিরে যান। শেষ চার উইকেট হারাতে রাজশাহীর লাগে মাত্র ১৬ রান। এসএম মেহেরবের ৩৩ ও সানজামুল ইসলামের ২৭ রান পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে পারেনি। এর আগে প্রথম ইনিংসে ৫২১ রান করেছিল ঢাকা। জবাবে রাজশাহী থেমেছিল ১৬২ রানে। ঢাকার হয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ।
তিনটি ড্রয়ের পর পাওয়া এই জয় ঢাকাকে পয়েন্ট তালিকায়ও এগিয়ে দিয়েছে। বোনাস পয়েন্টসহ ম্যাচ থেকে ৯ পয়েন্ট পেয়েছে তারা। চার ম্যাচে মোট ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দলটি। ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে খুলনা।
তবে দিনের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত অর্জন সিলেটে। কক্সবাজারে খুলনার বিপক্ষে সিলেটের ইনিংস ঘোষণার আগে নিজের নামের পাশে আরও একটি দ্বিশতক যোগ করেছেন অমিত হাসান। ১৭১ রান নিয়ে শেষ দিন শুরু করা এই ব্যাটসম্যান রাকিব হাওলাদারের বলে বাউন্ডারি মেরে পৌঁছে যান ২০০ রানে। শেষ পর্যন্ত ৩৩৫ বলে ১৬ চার ও ২ ছক্কায় ২০১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি অমিতের তৃতীয় দ্বিশতক। বাংলাদেশের সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। টানা তৃতীয় মৌসুমে দ্বিশতক পাওয়ার ধারাবাহিকতাও ধরে রাখলেন এই ব্যাটসম্যান। তার সঙ্গে আগের দিন সেঞ্চুরি পাওয়া আশরাফুল হাসানও ১১৪ রান করেন। দুজনের ব্যাটে ভর করে ৬ উইকেটে ৬৩২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে সিলেট।
জবাবে খুলনা ৭ উইকেটে ১৯৯ রান তোলার পর ড্র মেনে নেয় দুই দল। মোহাম্মদ মিঠুন ৬১ ও আফিফ হোসেন করেন ৫০ রান। চার ম্যাচে দুই জয় ও দুই ড্রয়ে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে খুলনা। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে সিলেট।
বগুড়ায় শাহ পরানের ইনিংসটিও ছিল আলাদা করে আলোচনার দাবি রাখে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের তৃতীয় ম্যাচেই প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন চট্টগ্রামের এই ব্যাটসম্যান। আর সেই সেঞ্চুরি এসেছে এমন এক আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে, যা সহজে ভুলে যাওয়ার নয়। ১৬৬ বলে ১১ চার ও ১২ ছক্কায় ১৬৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
গত মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকেই ৯১ রান করে আউট হয়েছিলেন শাহ পরান। এবার আর সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করেননি ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। সাত নম্বরে নেমে চট্টগ্রামের ইনিংসকে নিয়ে যান ৫৯৯ রানে। দশম উইকেটে ইফরান হোসেনের সঙ্গে তাঁর জুটি থেকে আসে ৭৯ রান। সেখানে ইফরানের অবদান মাত্র ৫। শেষ দিকে একাই ঝড় তুলেছেন শাহ পরান।
তাঁর ইনিংসে চট্টগ্রাম প্রথম ইনিংসে ১৩৪ রানের লিড পায়। ৪৬৫ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল ময়মনসিংহ। তবে ম্যাচের শেষ দৃশ্যটা ছিল বেশ নাটকীয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২৮ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে ময়মনসিংহ। পরে ৬১ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করে তারা। আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ড্র মেনে নিতে হয় দুই দলকে।
এদিকে সিলেটের একাডেমি মাঠে বরিশাল ও রংপুরের ম্যাচেও ব্যাটসম্যানদের দাপট অব্যাহত ছিল। প্রথম ইনিংসে রংপুরের ৪০২ রানের জবাবে বরিশাল ৯ উইকেটে ৪৪৩ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। শেষ দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে রংপুর ৫ উইকেটে ২৮৮ রান তোলার পর ড্র হয় ম্যাচ।
রংপুরের হয়ে সেঞ্চুরি পেয়েছেন মিম মোসাদ্দেক ও নবীন ইসলাম। ১২ চার ও এক ছক্কায় ১২১ রান করেন মিম। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে নবীন ১৪ চার ও এক ছক্কায় খেলেন ১০৪ রানের ইনিংস। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুজনেরই এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ম্যাচসেরাও হয়েছেন মিম।
চার রাউন্ড শেষে পয়েন্ট তালিকার চিত্রে অবশ্য ভিন্ন গল্প রংপুর ও বরিশালের। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর চার ম্যাচে তিনটি ড্র ও একটি হার নিয়ে ৬ পয়েন্টে সপ্তম স্থানে। অন্যদিকে আগের তিন ম্যাচে হারের পর এবার ড্র করে প্রথম পয়েন্টের দেখা পেয়েছে বরিশাল। তবে এখনো তালিকার তলানিতেই রয়েছে দলটি!
