The Sangbad · সাধারণ
টিলা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিন
২৭/১০/২০২৬

দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে টিলা কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। টাঙ্গাইলের সখীপুরের কালিয়ান, মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে টিলা কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সখীপুরের কালিয়ানে রাতের আঁধারে টিলা কেটে মাটি নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটা ও বসতবাড়ি ভরাটের কাজে। দিনের বেলায় খননযন্ত্র লুকিয়ে রেখে রাতে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে টিলার স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হচ্ছে। গাছপালা ও জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।একই চিত্র দেখা গেছে বড়লেখার পূর্ব-দৌলতপুরেও। সেখানে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাছেই টিলা কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাটির স্বাভাবিক গঠন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে টিলা । নির্বিচারে টিলা কাটলে ভূমিক্ষয় বাড়তে পারে। বৃষ্টির পানির স্বাভাবিক প্রবাহেও পরিবর্তন আসতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে আশপাশের গাছপালা ও প্রাণীর আবাসস্থল। একটি গোষ্ঠীর আর্থিক লাভের জন্য এমন ক্ষতি মেনে নেওয়া যায় না।টিলা কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে। ফটিকছড়ির নানুপুরে অবৈধভাবে টিলা কাটার অভিযোগে দুটি মিনি ট্রাক জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো প্রয়োজন।টিলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। রাতের বেলায় মাটি কাটার ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ও বাড়াতে হবে।প্রাকৃতিক টিলা একবার ধ্বংস হলে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন। তাই ক্ষতি বাড়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে অবৈধ টিলা কাটা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আমরা আশা করতে চাই।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗