রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে তিন দফা দাবিতে চলমান অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ পঞ্চম দিনেও অব্যাহত রয়েছে। গত ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির কারণে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ রয়েছে। এতে পর্যটন খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সাজেক এলাকা থেকে সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
অবরোধের সমর্থনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিকেটারদের উপস্থিতি চোখে না পড়লেও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা জানিয়েছেন, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে অপসারণসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, সাজেক এলাকা থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যদের অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া, স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
এদিকে অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ বন্ধ থাকায় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকায় আবাসন, খাবারের দোকান, পরিবহন ও অন্যান্য পর্যটননির্ভর ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে গত ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে নতুন করে পর্যটকদের সেখানে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটকদেরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সমস্যা সমাধানে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাজেকে অবরোধের কারণে একদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও দাবিদাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে পর্যটননির্ভর মানুষের জীবিকা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান এবং পর্যটন কার্যক্রম পুনরায় চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা কতটা অগ্রসর হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের।
-20261026044105.jpg&w=1440&q=75)