ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ইসরাইলিরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় দেশজুড়ে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও দেশটির ক্রমবর্ধমান ডানপন্থী রাজনীতির বিষয়ে নিজেদের মতামত জানাবেন ভোটাররা।
আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৭৩ লাখ। স্থানীয় সময় রাত ১০টায় অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহু এবার কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন। সর্বশেষ জনমত জরিপে তার সঙ্গে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্যপন্থী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের ব্যবধান খুবই কম দেখা গেছে।
২০২৩ সালের হামাসের হামলার পর গাজায় যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের মূল্যায়ন করছেন ভোটাররা।
জনমত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তার ডানপন্থী মিত্রদের সঙ্গে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের তীব্র লড়াই হতে পারে। সাবেক এই সেনাপ্রধান নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। তার জোটে ডানপন্থী ও মধ্যপন্থী— দুই ধারার সমর্থকেরাই রয়েছেন।
তবে কোনো পক্ষেরই এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ পরিষ্কার নয়। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে জোট গঠন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নির্বাচনী প্রচারে নিজের যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ট্রাম্পের সমর্থনও তার প্রচারের অন্যতম বিষয়।
রোববার নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ক্ষমতায় থাকলে ইরানের হুমকি স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে ট্রাম্প আবারও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
তবে আইজেনকোট নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, মিথ্যা ও হুমকিনির্ভর প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, জনগণ যাকেই নেতা হিসেবে বেছে নিক, ট্রাম্প তার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতায় কাজ করবেন বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহুকে আবারও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাদের দুজনই পশ্চিমা কয়েকটি দেশের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন। জনমত জরিপে বেন-গভিরের দল ইহুদি শক্তির সমর্থন বাড়ার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোট— কেউই সরকার গঠনের বিষয়ে নিশ্চিত অবস্থানে নেই। কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট গঠন করতে ব্যর্থ হলে আগামী বছর নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব পালন করতে পারে।