Authored By:
Published on
:
2 min read
এই সময়: বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে সাহায্য করতে পুলিশকে ব্যবহার করে স্ট্যাম্প পেপারে হলফনামা তৈরি করা হচ্ছে বলে কিছু দিন আগেই মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজি–কে চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন মমতা তৃণমূলের সাংসদ দোলা সেন। এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছে মমতা তৃণমূল। এই ব্যাপারে এ বার সরব হলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কালীঘাটের বাসভবনে একটি সংবাদসংস্থাকে রবিবার মমতা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনে সব নথি জমা দিতে বলা হয়েছে। আমরা আজ–কালের মধ্যে সেটা জমা দিচ্ছি। আমার কাছে তথ্য এসেছে— ডিএম, এসপি, বিডিও, আইসি সবাইকে হুমকি দিচ্ছে। সরকার থেকে স্ট্যাম্প পেপার, নোটারি, হলফনামা ওদের দেওয়া হচ্ছে। আমরা যাতে কিছু না–পাই, তার জন্য সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
মমতা তৃণমূলের নেতা–কর্মীদের অথবা প্রতিনিধিদের যাতে স্ট্যাম্প পেপার না–দেওয়া হয়, তার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার অভিযোগ, ‘বিজেপির লোকেরা কাউকে টাকা দিয়ে কিনছে। আর আমাদের কর্মী, বিধায়ক, সাংসদদের বলছে, জেলে যাবেন নাকি মমতার কাছে যাবেন? মমতার কাছে গেলে জেলে পাঠানো হবে। এটা কী? হিম্মত থাকলে রাজনীতি দিয়ে রাজনীতির মোকাবিলা করুন।’
নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ নিয়ে মমতা তৃণমূলের অভিযোগ আগেই উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল। রাজ্যে এখন তৃণমূলের কোনও অস্তিত্ব নেই বলে বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘তৃণমূল একটা ভেজাল পার্টি ছিল। তৃণমূল উঠে গিয়েছে।’
অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব কারা করছে? সেপ্টেম্বরে নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্ট তিন মাসের মধ্যে এর মীমাংসা করার নির্দেশ দেয়। সেই প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবে মমতা তৃণমূল ও গণতান্ত্রিক তৃণমূল— দু’পক্ষই সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলার, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত সদস্য থেকে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব কাদের সঙ্গে রয়েছেন, তার প্রমাণ সংগ্রহ করতে মাঠে নেমেছে।
এই সাংসদ, বিধায়ক, অন্যান্য জনপ্রতিনিধি থেকে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে, তিনি কোন পক্ষে রয়েছেন। এই হলফনামা তৈরির ক্ষেত্রেই স্ট্যাম্প পেপার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে মমতা তৃণমূল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘বিজেপির সঙ্গে যারা রয়েছে, বিজেপি যাদের টাকা দিয়েছে, যাদের বিদ্রোহী বলা হচ্ছে, তারা তো আসলে বিজেপি–র। আমরা আসল তৃণমূল কংগ্রেস।... আমাদের কোনও স্ট্যাম্প পেপার না–দিতে রেজিস্টার অফিসকে সরকার নির্দেশ দিয়েছে।’