স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বুড়ির পোল, কালিগঞ্জ, লালগঞ্জ, হাজীরহাট, চিকন খাল, গোবিন্দপুর, মাঝেরচর, ভাসানচর ও দক্ষিণ উলানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় মা ইলিশের বেচাকেনা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গোবিন্দপুরের চরে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের পাইকারদের আনাগোনা এবং বড় পরিসরে ইলিশের বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন মাছঘাটে প্রকাশ্যে ইলিশ কেনাবেচা চললেও সাধারণ ক্রেতারা মাছ নিয়ে ফেরার পথে পুলিশি অভিযানের মুখে পড়ছেন। তাঁদের ভাষ্য, এতে মা ইলিশ সংরক্ষণের অভিযান নিয়ে এক ধরনের ‘চোর-পুলিশ খেলা’ চলছে।
সংবাদকর্মীদের দাবি, অবৈধভাবে ইলিশ বিক্রির অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হলেও তাৎক্ষণিক কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। এ ছাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কয়েক দিন ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিয়াজুর রহমান দৈনিক ভোরের চেতনাকে বলেন, গোবিন্দপুরের মাছঘাটটি দুর্গম এবং দুই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে অভিযান পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করতে বলেছেন বলেও জানা গেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, দুর্গম ও সীমান্তবর্তী এলাকার ঝুঁকির কারণে যদি কার্যকর অভিযান পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ কতটা সফল হবে?
তাঁদের দাবি, নামমাত্র অভিযান বন্ধ করে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকার ও পাইকারি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায়, মা ইলিশ সংরক্ষণের সরকারি উদ্যোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
The post মেহেন্দিগঞ্জে মা ইলিশের জমজমাট বাণিজ্যের অভিযোগ, অভিযান নিয়ে প্রশ্ন appeared first on ভোরের চেতনা.
