৪৮ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ৪৩ মিনিট আগে
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ছবি: ফিরোজ আহমেদ
গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন সাদা বলের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল, তখন মিরপুরে তারা দেখতে পেয়েছিল কুচকুচে কালো রঙের পিচ। সিরিজজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল সেটা। এমন বিস্ময়কর পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছিল যে, ক্যারিবিয়ান স্পিনার আকিল হোসেন কৌতুক করে বলেছিলেন— ঘরে বসে খেলা দেখার সময় তার মনে হয়েছিল, তার টেলিভিশনের স্ক্রিনে হয়তো কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে!
আগামী বুধবার সেই শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। তার আগে ক্যারিবিয়ান প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামিকে মিরপুরের উইকেটের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি সম্ভবত অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে হাসিতে ফেটে পড়েন।
সোমবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন শেষে দ্য ডেইলি স্টারের এই প্রতিবেদক পিচ দেখেছেন কি না জানতে চাইলে স্যামি উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, দেখেছি।’
পরের প্রশ্ন ছিল, ‘এটা কি গত বছরের মতোই?’ প্রশ্নকর্তার ইঙ্গিত বুঝতে পেরে শব্দ করে হেসে ওঠেন স্যামি। আগের সফরের ওই কালো রঙের পিচের স্মৃতিই যেন তার চোখে আরেকবার ভেসে ওঠে।
হাসতে হাসতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা অলরাউন্ডার ও অধিনায়ক স্যামি জবাব দেন, ‘না! এটা নিশ্চিতভাবেই গত বছরের মতো একদমই নয়।’
তবে হাস্যরস ছাপিয়ে একটু গভীরে গিয়ে দেখতে গেলে, সাদা বলের ওই সিরিজে স্পিনারদের জন্য পিচে ছিল প্রচুর টার্ন। তবে এখন পর্যন্ত লাল বলের এই সিরিজের উইকেটের যে চেহারা দেখা যাচ্ছে, তাতে গত বছরের চেয়ে বেশ স্পোর্টিং বা ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। স্যামিও হয়তো মনে মনে ভেবেছেন, গত বছরের ঘূর্ণি উইকেটের তুলনায় আসন্ন সিরিজের কন্ডিশন বেশ আলাদা হতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান কোচের দায়িত্বে থাকা ফিল সিমন্সের অধীনে ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন স্যামি। তার অধীনে চলমান আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে ক্যারিবিয়ানরা নয় দলের মধ্যে পয়েন্ট তালিকার আট নম্বরে রয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজ দিয়েই দলটি তাদের এবারের চক্র শেষ করবে।
অন্যদিকে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চার নম্বরে থাকা বাংলাদেশের জন্য ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে এই সিরিজে ভালো ফলের বিকল্প নেই। ঘরের মাঠে খেলা হলেও তাই হয়তো বেশ চাপ থাকবে টাইগারদের ওপর। এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে স্যামির কথায় কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের ইঙ্গিতও পাওয়া যায়, ‘আমার মনে হয়, দুটি দলের জন্যই এবার অনেক কিছু পাওয়ার ও হারানোর আছে।’
‘প্রতিটি দলই জেতার জন্য টেস্ট ক্রিকেট খেলে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের চক্র যখন শুরু হয়েছিল, তখন কোন অবস্থানে গিয়ে আমরা টুর্নামেন্ট শেষ করতে চাই— তা নিয়ে আমাদের নিজস্ব কিছু লক্ষ্য ছিল। আমাদের দল ও প্রতিপক্ষের বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করলে, সেই লক্ষ্য ছোঁয়ার জন্য আমরা বেশ ভালো অবস্থানেই রয়েছি। এটাই বাস্তবতা,’ যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ দল বাড়তি চাপে থাকবে কি না, সেটা সরাসরি না বলে প্রশ্নটি নিজের সাবেক গুরু সিমন্সের দিকেই ঠেলে দেন স্যামি, ‘বাংলাদেশের ওপর কেমন চাপ আছে, তা নিয়ে আপনাদের ওদের প্রধান কোচকেই প্রশ্ন করা উচিত।’
সম্প্রতি ভারতের মাটিতে ২-২ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ড্র করে বাংলাদেশে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল এখন বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের সেই ইতিবাচক আবহ বজায় রেখে স্যামি স্মরণ করিয়ে দেন, ক্যারিবিয়ানরা সব সময়ই মানুষকে বিনোদন দিতে মাঠে নামে।
তিনি বলেন, ‘ঘরের মাঠে যাদের হারানো অত্যন্ত কঠিন— সেই বাংলাদেশের মতো দলের বিপক্ষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই শেষ করতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত। বিশেষ করে চলতি চক্রে তারা বেশ কিছু ভালো ফল নিয়ে এসেছে। আশা করছি, আমরা ভালো বিনোদন দিতে পারব। আর যখন আমরা বিনোদন দিই, তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।’
