সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেছেন-“সিলেট শহরকে পরিকল্পিত ও ঝুঁকিমুক্ত একটি আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্য অর্জনে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক) নাগরিকদের পাশে থেকে সহযোগিতা করতে চায়। আমরা চাই, নগরীর প্রতিটি ভবন নির্মিত হোক অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত বিধিমালা অনুসরণ করে। তবে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অমান্য করে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্মাণাধীন বহুতল ও সাধারণ ভবন পরিদর্শন করেন সিউকের কর্মকর্তারা। এ সময় ভবন নির্মাণের অনুমোদিত নকশা, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ এবং নির্মাণকাজ শেষে ভবন ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেটকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করেছে সিউক। নগরীর নির্মাণাধীন ভবনগুলো অনুমোদিত নকশা ও প্রচলিত বিধিমালা অনুসরণ করে নির্মিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ভবন নির্মাণে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কয়েস লোদী আরও বলেন, “ইমারত নির্মাণ বিধিমালা বাস্তবায়নে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে চাই। ভবন নির্মাণের শুরু থেকেই অনুমোদিত নকশা ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। একই সঙ্গে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ভবন ব্যবহারের আগে নিয়ম অনুযায়ী ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’ বা ব্যবহার সনদ গ্রহণ করতে হবে। এটি ভবনের নিরাপদ ও বিধিসম্মত ব্যবহার নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা চাই, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রয়োজন হওয়ার আগেই ভবনমালিকেরা সচেতন হোন এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করুন। এ ক্ষেত্রে নগরবাসী, ভবনমালিক, আবাসন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের আন্তরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
পরিদর্শনকালে নগরীর কাজলশাহ, বাগবাড়ি, মদিনা মার্কেট, জালালাবাদ ও আম্বরখানা এলাকার বেশ কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবন ঘুরে দেখেন সিউকের পরিদর্শন দলের সদস্যরা। ভবনগুলোর নির্মাণকাজ অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী হচ্ছে কি না এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালার সংশ্লিষ্ট শর্তগুলো অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়।
এ সময় ভবন নির্মাণের প্রাথমিক অনুমোদন গ্রহণের পাশাপাশি নির্মাণকাজ শেষে ভবনের ব্যবহার-উপযোগিতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’ সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করেন কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে শুধু ভবন নির্মাণের অনুমোদনই যথেষ্ট নয়; নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে নিয়ম মেনে চলা এবং ভবন ব্যবহারের আগে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
পরিদর্শনকালে সিউকের নির্বাহী পরিচালক, সিনিয়র সহকারী সচিব ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদিউর রহিম জাদিদসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিউক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ভবন নির্মাণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জননিরাপত্তা এবং পরিকল্পিত আবাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে নগরীর সব নির্মাণাধীন ভবনে সম্প্রসারণ করা হবে। নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে বিধিমালা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং ভবনমালিকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি আধুনিক নগরীর উন্নয়ন শুধু সড়ক, অবকাঠামো কিংবা বহুতল ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিরাপদ ভবন, সুশৃঙ্খল আবাসন, পরিবেশের ভারসাম্য এবং কার্যকর নগর ব্যবস্থাপনার সমন্বয়েই গড়ে ওঠে বাসযোগ্য শহর। এ ক্ষেত্রে ইমারত নির্মাণ বিধিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে, নিয়ম মেনে নিরাপদ ভবন নির্মাণ এবং নগরীর সুশৃঙ্খল বিকাশ নিশ্চিত করতে সিউকের মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন ও তদারকিমূলক উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নগরবাসী ও দায়িত্বশীল ভবনমালিকরা। তাঁদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবন নির্মাণে অনিয়ম কমবে, নাগরিক নিরাপত্তা বাড়বে এবং সিলেট একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে এগিয়ে যাবে।
