ছবি সংগৃহীত
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচ কোম্পানি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ব্যবসার বিপরীতে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিগুলো হলো সিলকো ফার্মা, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, মুন্নু ফেব্রিক্স ও এডভেন্ট ফার্মা। এসব কোম্পানির ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারপ্রতি এক পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩০ পয়সা। তবে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ও ঘোষিত লভ্যাংশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। কোথাও মুনাফা বাড়লেও লভ্যাংশের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম, আবার কোনো কোনো কোম্পানিতে আগের অর্থবছরের তুলনায় মুনাফা ও লভ্যাংশ—দুটিই কমেছে।
ঘোষিত লভ্যাংশের মধ্যে সিলকো ফার্মা সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য শেয়ারপ্রতি পাঁচ পয়সা নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ ঘোষণা করেছে ৩০ পয়সা, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ ১৫ পয়সা, এডভেন্ট ফার্মা দেড় পয়সা এবং মুন্নু ফেব্রিক্স এক পয়সা। কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফল, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি), আগের অর্থবছরের মুনাফা ও লভ্যাংশের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, তাদের ঘোষিত লভ্যাংশের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
সিলকো ফার্মা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৩৩ পয়সা মুনাফা করেছে। এর বিপরীতে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি পাঁচ পয়সা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি অর্জিত মুনাফার তুলনায় ঘোষিত নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ কম। কোম্পানিটির এই সিদ্ধান্তের ফলে শেয়ারহোল্ডাররা শেয়ারপ্রতি পাঁচ পয়সা নগদ অর্থ পাবেন, তবে তা বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।
গত ৩০ জুন সিলকো ফার্মার শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ২৩ টাকা ২৮ পয়সা। কোম্পানিটির ঘোষিত লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য আগামী ২০ জানুয়ারি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য লভ্যাংশের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। সভায় অংশগ্রহণের যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণে রেকর্ড তারিখ ঠিক করা হয়েছে ২৫ নভেম্বর।
কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি এক টাকা মুনাফা করেছে। এর বিপরীতে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৩০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। পাঁচ কোম্পানির মধ্যে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ঘোষিত লভ্যাংশের পরিমাণ সর্বোচ্চ। তবে শেয়ারপ্রতি এক টাকা মুনাফার বিপরীতে ৩০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্তে মুনাফার একটি অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
গত ৩০ জুন কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১৪ টাকা ৮৯ পয়সা। কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভার তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণের জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ ডিসেম্বর।
আগের অর্থবছরে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারপ্রতি ২১ দশমিক ৫ পয়সা নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। সে সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৭১ পয়সা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ২৯ পয়সা বেড়েছে। একই সময়ে ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ বেড়েছে ৮ দশমিক ৫ পয়সা। অর্থাৎ মুনাফা বৃদ্ধির তুলনায় লভ্যাংশের পরিমাণ বৃদ্ধির হার কম। তবে লভ্যাংশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন সাপেক্ষে।
তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৩০ পয়সা মুনাফা করেছে। এর বিপরীতে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১৫ পয়সা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি মুনাফার অর্ধেকের সমপরিমাণ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে কোম্পানিটি।
তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফলে অবনতি দেখা গেছে। আগের অর্থবছরে তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৭৫ পয়সা। সে সময় কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৪০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি মুনাফা কমেছে ৪৫ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নগদ লভ্যাংশ কমেছে ২৫ পয়সা।
অর্থাৎ আগের অর্থবছরের তুলনায় কোম্পানিটির মুনাফা ৬০ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি ঘোষিত নগদ লভ্যাংশও কমেছে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ। মুনাফা ও লভ্যাংশ—দুই ক্ষেত্রেই এই পতন কোম্পানিটির সর্বশেষ অর্থবছরের ফলাফলে পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে।
গত ৩০ জুন তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৩১ টাকা ৪২ পয়সা। কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় ঘোষিত লভ্যাংশ অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণের জন্য রেকর্ড তারিখ ঠিক করা হয়েছে ১৯ নভেম্বর।
মুন্নু ফেব্রিক্স ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি মাত্র দুই পয়সা মুনাফা করেছে। এর বিপরীতে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য শেয়ারপ্রতি এক পয়সা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। পাঁচ কোম্পানির মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন ঘোষিত লভ্যাংশ।
আগের অর্থবছরে মুন্নু ফেব্রিক্সের শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল চার পয়সা। ওই অর্থবছরে কোম্পানিটি সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য শেয়ারপ্রতি আড়াই পয়সা নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা অর্ধেকে নেমেছে। একই সঙ্গে নগদ লভ্যাংশ কমেছে দেড় পয়সা।
মুনাফা ও লভ্যাংশের এই পতন কোম্পানিটির সর্বশেষ অর্থবছরের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন নির্দেশ করে। শেয়ারপ্রতি মুনাফা কমে যাওয়ার পাশাপাশি লভ্যাংশের পরিমাণও কমেছে। ফলে আগের অর্থবছরের তুলনায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত নগদ প্রাপ্তিও কমবে।
গত ৩০ জুন মুন্নু ফেব্রিক্সের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ২৫ টাকা ৩৯ পয়সা। কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় ঘোষিত লভ্যাংশ অনুমোদনের বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণের জন্য রেকর্ড তারিখ ঠিক করা হয়েছে ১৭ নভেম্বর।
এডভেন্ট ফার্মা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৪২ পয়সা মুনাফা করেছে। তবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি মাত্র দেড় পয়সা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। মুনাফার তুলনায় এই লভ্যাংশের পরিমাণ বেশ কম।
আগের অর্থবছরে এডভেন্ট ফার্মার শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৭২ পয়সা। ওই সময় কোম্পানিটি সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য শেয়ারপ্রতি পাঁচ পয়সা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি মুনাফা কমেছে ৩০ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নগদ লভ্যাংশ কমেছে সাড়ে তিন পয়সা।
শতাংশের হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা কমেছে প্রায় ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে নগদ লভ্যাংশ কমেছে ৭০ শতাংশ। ফলে মুনাফা কমার পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত নগদ লভ্যাংশের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
গত ৩০ জুন এডভেন্ট ফার্মার শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১৬ টাকা ৮১ পয়সা। কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় ঘোষিত লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণের জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ নভেম্বর।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই পাঁচ কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণায় ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারপ্রতি ৩০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। অন্যদিকে মুন্নু ফেব্রিক্সের ঘোষিত লভ্যাংশ মাত্র এক পয়সা। এডভেন্ট ফার্মার লভ্যাংশ দেড় পয়সা, সিলকো ফার্মার পাঁচ পয়সা এবং তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের ১৫ পয়সা।
কোম্পানিগুলোর আগের অর্থবছরের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের মুনাফা ও লভ্যাংশ দুটিই বেড়েছে। বিপরীতে তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, মুন্নু ফেব্রিক্স ও এডভেন্ট ফার্মার ক্ষেত্রে মুনাফা কমার পাশাপাশি ঘোষিত লভ্যাংশও কমেছে। সিলকো ফার্মার ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের শেয়ারপ্রতি মুনাফা ও ঘোষিত লভ্যাংশের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে।
তবে শুধু নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ দিয়ে কোনো কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা বা বিনিয়োগের উপযোগিতা নির্ধারণ করা যায় না। শেয়ারপ্রতি মুনাফা, নিট সম্পদমূল্য, ব্যবসার ধারাবাহিকতা, ভবিষ্যৎ আয় এবং শেয়ারের বাজারদরও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুযায়ী কার্যকর হবে।
পাঁচ কোম্পানির ঘোষিত লভ্যাংশে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পরিমাণের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ৩০ পয়সা থেকে মুন্নু ফেব্রিক্সের এক পয়সা পর্যন্ত এই পার্থক্য কোম্পানিগুলোর মুনাফা ও লভ্যাংশনীতির ভিন্নতা তুলে ধরে। পুঁজিবাজারে এসব ঘোষণার প্রভাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের কোম্পানির সামগ্রিক আর্থিক ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
