কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ধর্ষণের শিকার হওয়া এক তরুণীর নবজাতক ছেলে সন্তানকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে নবজাতককে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটিকে হস্তান্তরের জন্য ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে করা একটি চুক্তিপত্রও জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— জোবেদা আক্তার সানজিদা (৩৫), নজরুল ইসলাম মনির (৪৮), স্বপ্না বেগম ও রিপন। পুলিশের ভাষ্য, শিশুটির পিতৃপরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। উদ্ধার করা চুক্তিপত্রে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে নবজাতক হস্তান্তরের কথা উল্লেখ রয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার এক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, একই গ্রামের এক যুবক বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। গত ২৩ অক্টোবর চৌদ্দগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, ওই তরুণীর বাবা প্রায় ১২ বছর আগে মারা যান। তার মা অসুস্থ বৃদ্ধা নানির চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ সময় ঢাকার হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় বাড়িতে একা থাকার সুযোগে সেই যুবক একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ভয়ে প্রথমদিকে বিষয়টি কাউকে জানাননি সেই তরুণী। পরে তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে মা বিষয়টি জানতে পারেন।
পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত যুবকের পরিবার প্রথমে তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সমঝোতার অংশ হিসেবে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, গত শুক্রবার রাতে সেই তরুণীর প্রসবব্যথা উঠলে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পরপরই অভিযুক্তপক্ষের লোকজন নবজাতককে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী তরুণীর বড় বোনের দাবি, শিশুটিকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছিলেন। তবে, পুলিশের উদ্ধার করা চুক্তিপত্রে দেড় লাখ টাকার কথা উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে সালিসে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠা এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, তিনি অভিযুক্তের চাচার দোকানে বসে ছিলেন। অন্যরা বাড়ির ভেতরে গিয়ে সমঝোতা করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে, সমঝোতার অর্থের পরিমাণ বা নবজাতক হস্তান্তরের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন তিনি। অভিযুক্ত যুবকের চাচা এ ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন।
বিষয়টি পুলিশ সুপারের নজরে আসার পর গোয়েন্দা পুলিশ ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে, শিশুটিকে কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তা পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, নবজাতক বিক্রির ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
