কোপা ট্রফিতে ইয়ামালের হ্যাটট্রিক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বয়স মাত্র ১৯। অথচ ব্যক্তিগত সাফল্যে একের পর এক ইতিহাস গড়ছেন লামিনে ইয়ামাল। টানা তৃতীয়বারের মতো কোপা ট্রফি জিতে নিজের প্রতিভার আরেকটি স্বীকৃতি পেলেন স্পেনের এই তরুণ উইঙ্গার। তবে পুরস্কার হাতে নিয়েও সতীর্থ পাউ কুবারসির কথা ভুললেন না তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বসেছিল বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের মিলনমেলা। ব্যালন ডি’অর ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানের সেই জমকালো মঞ্চেই আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের জানান দিলেন লামিনে ইয়ামাল। টানা তৃতীয়বারের মতো জিতলেন কোপা ট্রফি। তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে সেরার স্বীকৃতি ধরে রেখে গড়লেন হ্যাটট্রিক।
স্পেনের হয়ে ফিফা বিশ্বকাপ ও বার্সেলোনার জার্সিতে লা লিগা শিরোপা জিতে এবছর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেছেন ইয়ামাল। বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন বারবার। এবার কোপা ট্রফির লড়াইয়ে পেছনে ফেলেছেন বার্সেলোনার সতীর্থ পাউ কুবার্সি ও ফ্রান্সের ওয়ারেন জায়ারে-এমেরিকে।
তবে পুরস্কার জয়ের আনন্দের মধ্যেও সতীর্থকে ভুলে যাননি এই স্প্যানিশ তারকা। বরং ট্রফি হাতে নিয়েই কুবারসির প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথা জানিয়েছেন তিনি বলেন, ‘প্রথমেই বলতে চাই, পাউ কুবার্সি যদি আজ রাতে আমাদের সঙ্গে এখানে থাকতে পারত, তাহলে খুব ভালো লাগত। আমার মতে, এই পুরস্কারের অন্যতম প্রধান দাবিদার ছিল সে। এই সম্মান তারও প্রাপ্য। দীর্ঘদিন ধরেই সে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে আসছে। আমি সত্যি আশা করেছিলাম সেই যেন এই পুরস্কারটি পায়।’
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ইয়ামাল আরও বলেন, ‘এটি আমার টানা তৃতীয় বছরের অর্জন এবং এই সম্মান অব্যাহত রাখতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত। আমার ক্লাব, জাতীয় দল এবং যারা আমাকে এতদূর আসতে সাহায্য করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। এখন আমাকে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে, যাতে দলের হয়ে আরও শিরোপা এবং এই ধরনের ব্যক্তিগত পুরস্কার জিততে পারি।’
পাপ্পু/
আরও পড়ুন
তৃতীয়বার ব্যালন ডি’অর ফেমিনিন জিতলেন পুতেয়াস
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২২ এএম
লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে নিজের তৃতীয় নারী ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জয়ের আনন্দ উদযাপন করছেন আলেক্সিয়া পুতেয়াস। ছবি: সংগৃহীত
-->নারী ফুটবলে আবারও সেরার স্বীকৃতি আলেক্সিয়া পুতেয়াসের। লন্ডনের মঞ্চে তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর ফেমিনিন জিতে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন স্পেনের এই তারকা। তার সাফল্যের গল্পে রয়েছে দলীয় অর্জন, কঠিন সময় পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো এবং নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বার্তা।
লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটার। বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের উপস্থিতিতে জমকালো আয়োজন। সেই মঞ্চেই আবারও আলো ছড়ালেন আলেক্সিয়া পুতেয়াস। সোমবার (২৬ অক্টোবার) ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর ফেমিনিন জিতে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো এই সম্মান অর্জন করলেন স্পেনের এই ফুটবলার।এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে পুরস্কারটি জিতেছিলেন তিনি। এবার নতুন করে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পেলেন ৩২ বছর বয়সি এই তারকা।
বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল তার এই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। লিগা এফ, কোপা দে লা রেইনা, স্প্যানিশ সুপার কাপ ও উয়েফা নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। মাঝ মাঠে তার দক্ষতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা দলকে এনে দিয়েছে একের পর এক সাফল্য।
জাতীয় দল স্পেনের হয়েও বছরটি ছিল উল্লেখযোগ্য। উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জিতেছে দলটি। তবে নারী ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের।
পুরস্কার হাতে নিয়ে নিজের অর্জনের কৃতিত্ব সতীর্থদের সঙ্গে ভাগ করে নেন পুতেয়াস। তার মতে, মনোনীত খেলোয়াড়দের প্রত্যেকেরই এই পুরস্কার জেতার যোগ্যতা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শুরুতেই আমি আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। এখানে উপস্থিত যে কেউ এই ট্রফি জিততে পারতেন। আপনাদের প্রত্যেকের সঙ্গে খেলতে পারা আমার জন্য দারুণ আনন্দের।’
পুরস্কার গ্রহণের বক্তব্যে শুধু নিজের সাফল্য নিয়েই কথা বলেননি পুতেয়াস। ফুটবলে আগ্রহী শিশু-কিশোরদের জন্য দিয়েছেন সাহস জোগানো বার্তা।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের সকল ছেলে ও মেয়ে-যদি তোমরা ফুটবলকে ভালোবাসো এবং ফুটবল খেলতে চাও, তবে খেলো। তুমি ছেলে নাকি মেয়ে, তা কোনো ব্যাপার নয়। তুমি কোথা থেকে এসেছো, তাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। কেউ যদি তোমাকে বলে যে তুমি এটি পারবে না, তবে তার কথা শুনো না। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো।’
এই জয়ের ফলে পুতেয়াস নারী ব্যালন ডি'অর জয়ীদের তালিকায় যৌথভাবে সবচেয়ে সফল খেলোয়াড় হয়ে উঠলেন। গত বছর টানা তিনবার এই শিরোপা জিতে হ্যাটট্রিক করা তার জাতীয় দলের সতীর্থ আইতানা বোনমাতির রেকর্ডে ভাগ বসালেন তিনি।
পাপ্পু/
আরও পড়ুন
অবশেষে হ্যারি কেইনের হাতেই ব্যালন ডি’অর
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১ এএম
আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২০ এএম
লন্ডন প্যালাডিয়াম থিয়েটারে ব্যালন ডি’অর হাতে হ্যারি কেইন। ছবি: সংগৃহীত
-->লন্ডনের আলো ঝলমলে মঞ্চ। চারদিকে তারকাদের ভিড়। সবার চোখ তখন বিজয়ীর নামের দিকে। খাম খোলার পরই গর্জে উঠল পুরো মিলনায়তন-‘হ্যারি! হ্যারি! হ্যারি!’ দীর্ঘ অপেক্ষার পর ব্যালন ডি’অর জিতে ইংলিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়লেন হ্যারি কেইন। আবেগঘন মুহূর্তে এই স্বীকৃতি উৎসর্গ করলেন সতীর্থ, কোচ ও নিজের দীর্ঘ ফুটবলযাত্রার সঙ্গীদের।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইংল্যান্ডের লন্ডনে অবস্থিত লন্ডন প্যালাডিয়াম থিয়েটারে কেইনের হাতে তুলে দেয়া হয় এই পুরস্কার। মঞ্চে উঠে সোনালি ট্রফিটি হাতে নিলেন হ্যারি কেইন। কিছুক্ষণ যেন কথা হারিয়ে ফেলেছিলেন ইংল্যান্ডের এই তারকা স্ট্রাইকার। এরপর বললেন, ‘ওয়াও, আমি সত্যিই বাকরুদ্ধ।’
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের মধ্য দিয়ে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন কেইন। গত ২৫ বছরের মধ্যে প্রথম ইংলিশ পুরুষ ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি।
টটেনহ্যামের একাডেমি থেকে উঠে আসা সেই তরুণ আজ ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মানগুলোর একটির মালিক। আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা ফ্রান্স ফুটবলকে ধন্যবাদ জানান কেইন। লন্ডনে অনুষ্ঠান আয়োজন করায় তার আনন্দ ছিল আরও বেশি।
‘মনে হচ্ছে, লন্ডন আমার জন্য শুভ বার্তা নিয়ে এসেছে,’ বলেন তিনি।
কেইনের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে অসাধারণ একটি মৌসুম। ৭৩ গোল, বুন্দেসলিগার শিরোপা এবং বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার অভিজ্ঞতা-সব মিলিয়ে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন তিনি।
এরপর তিনি বায়ার্ন মিউনিখের কথা উল্লেখ করেন। উল্লেখ করেন সেই সতীর্থদের কথা, যারা অনুশীলনে তাকে সেরাটা দিতে বাধ্য করেন। আর স্মরণ করেন তার কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির কথা, যিনি হয়তো তখনও হাসপাতালেই ছিলেন।
কেইন বলেন, ‘আমার বায়ার্ন মিউনিখ সতীর্থদের বলতে চাই, আজ রাতে তোমাদের কয়েকজন এখানে আছো। তোমাদের ছাড়া এটি মোটেও সম্ভব হতো না। তোমরা যেভাবে আমাকে পুশ করো, আমরা যেভাবে প্রতিযোগিতা করি-তা আমাকে একজন ভালো খেলোয়াড়ে পরিণত করে। এটি আমাকে আরও উন্নত হওয়ার প্রেরণা দেয়। তাই তোমাদের অনেক ধন্যবাদ। আর ভিনিকে বলব, আমি জানি তিনি বাড়িতে আছেন, মনে হয় এখনো হাসপাতালেই আছেন-আপনার দ্রুত সুস্থ্যতা কামনা করি। আশা করি এই আনন্দ আপনাকে খানিকটা শক্তি দেবে!’
ইংল্যান্ড। এই শব্দটি উচ্চারণ করার আগে তিনি খানিকটা থামলেন।
তিনি আরও বলেন,‘আমার সব ইংল্যান্ড সতীর্থদের উদ্দেশে বলছি… আমাদের বছরটা বিশেষ ছিল। বছরটা নিখুঁত না হলেও, আমাদের অনেক সুন্দর মুহূর্ত ছিল। আমরা নিজেদের মধ্যে চমৎকার বন্ধন ও ঐক্য গড়ে তুলেছিলাম। যেভাবে আমরা খেলেছি, যেভাবে অনুশীলন করেছি-তোমাদের নেতৃত্ব দেওয়া এবং অধিনায়কত্ব করা আমার জন্য সত্যিই এক বিশাল সম্মানের বিষয় ছিল। তাই এই ট্রফিটি নিশ্চিতভাবেই আমাদের সবার।’
থমাস টুখেলের নাম নেওয়ার পর তিনি টটেনহ্যামের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি টটেনহ্যাম হটস্পারকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। টটেনহ্যাম ছাড়া আমি আজ যেখানে আছি, সেখানে পৌঁছাতে পারতাম না। ১১ বছর বয়স থেকে আমি সেখানে ছিলাম। সব দিকনির্দেশনা এবং কোচদের সহযোগিতায় আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। সেই পুরো যাত্রার ভালো-মন্দ মুহূর্তগুলো না থাকলে, আমি আজ এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না।’
পাপ্পু/
আরও পড়ুন
কোন দলে কারা খেলবেন
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ডি-থ্রি ট্রফি মানে তিনের ভেতর এক। প্রথম শ্রেণি (৪ দিনের ম্যাচ), ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি আসর। ৬ দলের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক আসর। ২৩ জনের স্কোয়াড নিয়ে খেলতে হবে তিনটি আসর। ঘরোয়া ক্রিকেটে বিসিবির নতুন আয়োজন। তাই বিসিবিরও ছিল চমক। ড্রাফটের মাধ্যমে আগেই ৬ ফ্র্যাঞ্চাইজির পাশাপাশি আইকন ক্রিকেটার এবং কোচিং স্টাফ বেছে নেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয় ভিন্ন দুটি দিনে। তারপর খেলোয়াড় নেওয়ার পালা। এখানে আর বিসিবি ড্রাফট রাখেনি। সরাসরি হাট। এই হাট থেকে খেলোয়াড় কিনতে আবার দলগুলোকে টাকার বস্তা নিয়ে নামতে হয়নি।
এর কারণও ছিল। বিসিবি আগেই ৩ ফরম্যাটে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১ লাখ ৫০ হাজার, ওয়ানডে ম্যাচে ১ লাখ এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৮০ হাজার টাকা। তাই খেলোয়াড় কেনার জন্য এক একটি দলকে পয়েন্ট নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।
প্রতিটি দলেরই সর্বোচ্চ পয়েন্ট ছিল ১০ কোটি। এখান থেকেই তাদের ২২ জন ক্রিকেটারকে কিনে নিতে হবে। কাজেই চাইলেও এক একটি দল নিজেদের পছন্দের ক্রিকেটার কিনতে কোটি কোটি পয়েন্ট ব্যয় করতে পারবে না। নিলামে অর্থের মতোই খেলোয়াড় নিয়ে কাড়াকাড়ি ছিল। এই কাড়াকাড়িতে সবচেয়ে বেশি দাম উঠেছে শরিফুল ইসলামের। তুমুল লড়াইয়ের পর ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে তাকে কিনে নিয়েছে ফরচুন গ্রুপ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট ওঠে তাসকিনকে পেতে। তাকে নিয়েও কাড়াকাড়ি হয়। ২ কোটি ১০ লাখ পয়েন্টের বিনিমেয় তার ঠিকানা হয়েছে ওয়ালটন গ্রুপে। প্রথম দুটি স্থান পেসারদের হলেও তৃতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট ওঠে ওপেনার তানজিদ তামিমের। ২ কোটি পয়েন্ট ব্যবহার করে তাকে পেয়েছে ফরচুন গ্রুপ।
পয়েন্টের ভিত্তিতে এই নিলামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার ও উপস্থাপক চারু শর্মা। সোমবার হোটেল শেরাটনে তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় নিলামের আকর্ষণ অনেক বেড়ে যায়। তার উপস্থাপনার সময় বোঝাই যায়নি যে, টাকার খেলা হচ্ছে না! সবাইকে মুগ্ধ করে রাখার কারণে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হওয়া নিলাম অনুষ্ঠানে কাউকে বিরক্ত হতে দেখা যায়নি।
নিলামে ২৭৫ জন ক্রিকেটারকে ৫ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ২২ জন (আইকন ক্রিকেটারসহ), ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ২৫ জন, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৭০ জন, ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে ৫২ জন এবং ‘ই’ ক্যাটাগরিতে ১১২ জন। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে ছিল ভিত্তিমূল্য।
‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৪০ লাখ, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৩০ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ২০ লাখ, ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে ১০ লাখ এবং ‘ই’ ক্যাটাগরিতে ৫ লাখ পয়েন্ট। প্রতিটি দল ২২ জন ক্রিকেটার নেওয়ার সুযোগ থাকায় ১৩২ জন ক্রিকেটার দল পাবেন। তবে বিশেষ কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে বিসিবির কাছে আবেদন করে দল না পাওয়াদের মাঝ থেকে ক্রিকেটার নেওয়া যাবে। প্রতিটি সংস্করণ শুরুর আগে ১৫ জনের স্কোয়াড জমা দিতে হবে টুর্নামেন্ট কমিটির কাছে।
৬ দলের আইকন ক্রিকেটার হলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত একমি, মোহাম্মদ নাঈম শেখ সিটিজেনস ব্যাংক, নুরুল হাসান সোহান ব্লু স্টার, তাওহীদ হৃদয় ফরচুন গ্রুপ, মুশফিকুর রহিম সেভেন রিংস সিমেন্ট এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়ালটন।
নিলামে ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে সবার আগে নাম ওঠে শেখ মাহাদী হাসানের। শুরুটা হয় কাড়াকাড়ি দিয়ে। ৪০ লাখ পয়েন্ট থেকে তাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে করতে পরে দেড় কোটি পয়েন্টে পেয়ে যায় ব্লু স্টার। এর পরই বাজার গরম করে দেয় ফরচুন গ্রুপ। পছন্দের ক্রিকেটার ছাড়তে তারা নারাজ ছিল। ১০ কোটি পয়েন্টের মাঝে ৩ কোটির ওপরে ব্যবহার করে ফেলে ৩ ক্রিকেটার সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ তামিমকে। সৌম্যকে ৭৫ লাখ, নাজমুল হোসেন শান্তকে ১ কোটি ৫ লাখ ও তানজিদ তামিমের জন্য কোটি পয়েন্ট ব্যবহার করে।
এই ৩ জনই ছিলেন ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রথম ৫ জনের সিরিয়ালে। পয়েন্টের মূল্যমানে ২ কোটি না ছাড়ালেও অল্প কমে সাইফ হাসান ও হাসান মাহমুদকে পেতেও তুমুল লড়াই হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১ কোটি ৯৫ লাখ পয়েন্ট ব্যবহার করে সাইফ হাসানকে সেভেন রিংস ও হাসান মাহমুদকে ব্লু স্টার পেয়ে যায়। ১ কোটি ৮০ লাখ পয়েন্টে জাকের আলী অনিককে পেয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক।
নিলামে অনেক কম পয়েন্ট উঠেছে মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন ও নাহিদ রানার ক্ষেত্রে। মোস্তাফিজকে মাত্র ৭০ লাখ পয়েন্টে সেভেন রিংস, রিশাদ হোসেনকে ৬০ লাখ পয়েন্টে ফরচুন গ্রুপ এবং নাহিদ রানাকে ৭৫ লাখ পয়েন্টে ব্লু স্টার পেয়েছে। এর কারণ প্রথম দুজন বিগ ব্যাশে খেলবেন। তাদের ১৫ ডিসেম্বর শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি আসরে পাওয়া যাবে না। নাহিদ রানা আছেন ইনজুরিতে।
প্রতিটি দলই তাদের প্রয়োজনীয় ক্রিকেটার প্রথম ৪ ক্যাটাগরি থেকে নেওয়াতে ‘ই’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা খুবই কম দল পেয়েছেন।
এদিকে, উল্লেখযোগ্য ক্রিকেটারদের মাঝে দল পাননি নাসির হোসেন, সোহাগ গাজী, আলাউদ্দিন বাবু, প্রীতম কুমার, আশিকুর রহমান শিবলি।
১৫ ডিসেম্বব বরিশালে টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে ডি-থ্রি ট্রফি। ফাইনালসহ মোট ১৯টি খেলা। ৩১ ডিসেম্বর বরিশালই অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
পলাশ/নাঈম
আরও পড়ুন
সাফকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট মানছেন তপু
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। ছবি: সংগৃহীত
-->দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা দেশে ফেরানোই বাংলাদেশের ফুটবলারদের প্রধান লক্ষ্য। আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় প্রতিযোগিতাকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। শিরোপার লক্ষ্যে নিজেদের প্রস্তুত করার পাশাপাশি নতুন সতীর্থদের সঙ্গে মাঠের বোঝাপড়া গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
সাফের জন্য বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি চলছে জাতীয় স্টেডিয়ামে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ছিল প্রথম অনুশীলন সেশন। প্রাথমিক স্কোয়াডের কয়েকজন খেলোয়াড়ের যোগ দেওয়া এখনো বাকি। তাদের অপেক্ষায় থাকলেও টুর্নামেন্ট সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চান না তপু।
তপু বলেন, ‘আমাদের পাঁচ-ছয়জন খেলোয়াড়ের আসা বাকি। সবাই সাফের জন্য মুখিয়ে আছে। আমাদের ক্যারিয়ারের জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে।’
দলে নতুনদের সঙ্গে বোঝাপড়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন এই ডিফেন্ডার। জিদান ইউসুফের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তপু বলেন, ‘আসলে ওর বয়স অনেক কম, এশিয়ান কাপে খেলেছে, ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে। ওর সঙ্গে বোঝাপড়ার জন্য নয় দিন সময় পাব। আগেও একসঙ্গে ট্রেনিং ক্যাম্পে ছিলাম।’
এদিকে জাতীয় দলের নতুন মুখ মাহি খানকে নিয়ে আশাবাদী তপু। বয়সে তরুণ এই ফরোয়ার্ড বাংলাদেশের যুব দলের হয়ে খেলেছেন। সিনিয়র দলে তার অন্তর্ভুক্তিকে রোমাঞ্চকর হিসেবেই দেখছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। মাহিকে নিয়ে তপুর মন্তব্য, ‘মাহি খান একদম নতুন, জুনিয়র টিমে খেলেছে। ভেরি এক্সাইটিং।’
বাংলাদেশ সবশেষ ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর শিরোপা জেতা হয়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এবার ঘরের মাঠে সেই অপেক্ষা ঘোচানোর সুযোগ দেখছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। লক্ষ্য পূরণে প্রস্তুতি, দলীয় সমন্বয় ও নতুন-পুরোনো খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়াই হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তোফায়েল/এএফ
