‘নজরুল চর্চা কেবল একদিন বা এক বছরের আয়োজনে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ ও চেতনাকে আমাদের নিজেদের জীবনে ও দেশের উন্নয়নে প্রয়োগ করতে হবে।’—এমন আহ্বানের মধ্যদিয়ে চুয়াডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ-২০২৬’ উৎসব।
গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর, ২০২৬) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের আয়োজনে ‘জাগো নব সৃষ্টির মহানন্দে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ মেহেদী শাহরিয়ার।
সমাজ গঠনে নজরুলের আদর্শের গুরুত্ব তুলে ধরে উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, "নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে জেলায় সরকারের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে চুয়াডাঙ্গার শিশু-কিশোররা অংশ নিয়ে যে কৃতিত্ব অর্জন করেছে, তা জেলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।"
কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ ও চেতনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "নজরুল সাম্য, প্রেম, বিরহ, বিপ্লব ও চেতনার কবি। তার আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও কাজে লাগাতে হবে। সংস্কৃতির চর্চা সমাজ থেকে অপসংস্কৃতি ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে সহায়তা করে। যুবসমাজকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।"
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার কার্পাসডাঙ্গায় কবির স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, "আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত একটি জায়গা চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় অবস্থিত। যা চুয়াডাঙ্গাবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমি সম্প্রতি সেই জায়গায় গিয়েছিলাম। আজ থেকে ১০০ বছর আগে আমাদের জাতীয় কবি পরিবারসহ সেখানে আড়াই মাস অবস্থান করেছিলেন এবং তার অসামান্য গ্রন্থ পদ্মগোখরা, মৃত্যুক্ষুধা, ও কবিতা লিচুচোর সেখানেই লিখেছিলেন।"
নজরুলের দর্শনের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজের মিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, "উনার লেখার মাধ্যমে তিনি সমাজ ব্যবস্থাকে সাম্যবাদী করতে চেয়েছিলেন এবং দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য হিসেবে উনার এই দর্শনের সাথে আমাদের কাজের অনেক মিল দেখতে পাই। উনি যেমন চেয়েছেন, আমরাও চাই এই সমাজ থেকে অপশাসন দূর হোক, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক ও সমতা বিধান হোক।সর্বোপরি তো সমাজ গঠন হোক " একই সাথে বর্তমান প্রজন্মের মাঝে মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তা প্রতিরোধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন পুলিশ সুপার।
এদিকে অনুষ্ঠানের মূল উদ্বোধক, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ সরাসরি উপস্থিত হতে না পারায় অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। কণ্ঠশিল্পী হিরণ উর রশিদ শান্তর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিপুলসংখ্যক প্রতিযোগী উপস্থিত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে , তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, হামদ-নাত ও নাটক মঞ্চায়নসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে।
