অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার গোপালপুর থেকে সোহালিয়া সড়কের মাঝামাঝি স্থানে পৌরসভার ময়লা ফেলার জন্য নির্ধারিত স্থান থাকলেও সেখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে না। অন্যদিকে পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আদি যমুনা খালটি ময়লা-আবর্জনায় ভরাট ও দূষণের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বর্জ্য ফেলার জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। সরকারি অর্থায়নে ইটের রাস্তাও নির্মাণ করা হয়। অথচ বর্জ্য ফেলার স্থানটি পার্শ্ববর্তী মৎস্য ঘের থেকে সুরক্ষিত করতে নামমাত্র অ্যালবেস্টার শিট দিয়ে ভেড়ি দেওয়া হয়েছে। এতে বর্জ্য আটকে রাখার কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। পাশের মৎস্য ঘেরের পানি ওই স্থানে প্রবেশ করায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্জ্য পচে সৃষ্ট দূষিত তরল ও দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস আশপাশের পরিবেশ এবং মাছ চাষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
স্থানীয় ঘেরমালিক আবু সাইদের অভিযোগ, বর্জ্য ফেলার স্থানটি যথাযথভাবে সুরক্ষিত না করায় তাঁর মৎস্যঘের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাঁর দাবি, শুরুতেই মজবুত মাটির ভেড়ি নির্মাণ করা হলে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।
স্থানীয় গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ গাজী বলেন, “এখানে শুধু ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের বর্জ্য ফেলা হয়, পৌরসভার ময়লা ফেলা হয় না।”
তাঁর বক্তব্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে নির্ধারিত স্থানে ঠিক কী ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এবং পৌরসভার দৈনন্দিন বর্জ্য কোথায় যাচ্ছে ?
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুজ্জাহান কনক বলেন, “বিষয়টি দুঃখজনক। দ্রুত মাটির ভেড়ি দিয়ে ময়লা ফেলার স্থানটি ঠিকঠাক করে পৌরসভার ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।”
প্রশাসনের এ আশ্বাসের পর এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে নির্ধারিত স্থানটিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপযোগী করা হবে এবং আদি যমুনা খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করাই যথেষ্ট নয়; সেখানে বর্জ্য নিরাপদে সংরক্ষণ, পৃথক্করণ, পরিবহন ও চূড়ান্ত ব্যবস্থাপনারও কার্যকর পদ্ধতি থাকতে হয়।
খুলনা গেজেট/এএজে
