Published on
:
2 min read
কয়েক বছর আগে বিশ্ব নতুন একটি শব্দের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিল, যার নাম ‘রিভেঞ্জ ট্যুরিজ়ম’। করোনকালে লকডাউন, ছোঁয়াছুঁয়ির কড়াকড়ি কাটিয়ে সীমান্ত খোলার পরে মানুষ একপ্রকার ঘরের বাইরে আছড়ে পড়েছিল। কাছেপিঠে, দূরে, দেশ, বিদেশ— সর্বত্র পর্যটকদের প্লাবন এসেছিল। তার নেপথ্যে ছিল মূলত হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো পুষিয়ে নেওয়ার জেদ। অনেকেই ভেবেছিলেন, এই প্রবণতা বুঝি সাময়িক। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, রিভেঞ্জ ট্যুরিজ়ম ফিরে আসছে নতুন রূপে!
চলতি বছর ভ্রমণপিপাসুদের পথ খুব একটা সহজ ছিল না। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে দুবাই বা দোহার মতো বড় হাবগুলোর ফ্লাইট রুট ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বহু পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে। কিন্তু পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্রমণ আটকে থাকলে মানুষের ভিতরে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছেটা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। আর সেই জমে থাকা সুপ্ত বাসনাই এখন উস্কে দিচ্ছে নতুন করে রিভেঞ্জ ট্যুরিজ়মকে।
কেন ঘটছে এই কামব্যাক?
‘রিভেঞ্জ ট্যুরিজ়ম’-এর মূল মন্ত্রটি খুবই সহজ। মানুষকে কোথাও যাওয়া থেকে বিরত করলেই তাঁর যাওয়ার আগ্রহ আরও বেশি করে জেগে ওঠা। মহামারীর সময় মানুষ একটি বড় শিক্ষা পেয়েছে যে, জীবন অনিশ্চিত এবং পরিকল্পনা যে কোনও মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। এই উপলব্ধি মানুষকে আরও বেশি সংকল্পবদ্ধ করে তুলেছে। এখনকার পর্যটকরা ‘একদিন ঘুরতে যাব’ এই আশায় বসে না থেকে ‘এখনই ঘুরে নেব’ নীতিতে বিশ্বাসী।
আগের চেয়ে কতটা আলাদা এ বারের ট্রেন্ড?
প্রথম দফার রিভেঞ্জ ট্যুরিজ়মের সময় মানুষ যেখানে খুশি, যেমন ভাবে পেরেছে বুকিং করেছে। ফলে পাহাড় বা সমুদ্র সৈকতে উপচে পড়া ভিড় এবং আকাশছোঁয়া দামের খতিয়ান মিলেছে বিভিন্ন জায়গা থেকে। তবে এ বারের চিত্রটা অনেকটাই আলাদা।
দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণগুলো এখন থেকেই ফ্লেক্সিবল টিকিট ও ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স-সহ বুক করা হচ্ছে।
যাঁরা আগে উপসাগরীয় অঞ্চলের উপর দিয়ে যাতায়াত করতেন, তাঁরা এখন সিঙ্গাপুর, ইস্তানবুল কিংবা সরাসরি ফ্লাইটের উপর ভরসা রাখছেন। ভারতীয় পর্যটকদের ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভুটান এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পাহাড়ি বা উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর চাহিদা তুঙ্গে।
খরচে কার্পণ্য করছেন না পর্যটকরা। সাফারি, ক্রুজ় কিংবা বিলাসবহুল ট্রেন ভ্রমণের মতো ‘ওয়ান্স-ইন-আ-লাইফটাইম’ অভিজ্ঞতা বেছে নিচ্ছেন তাঁরা। পরিবারের সকলকে নিয়ে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতাও বেশ স্পষ্ট।