চার বছর কারাভোগ শেষে দুই বছরের সন্তানসহ দেশে ফিরল বাংলাদেশি দম্পতি!
ভারতে চার বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশি এক দম্পতি ও তাঁদের দুই বছরের শিশু সন্তান। ভালো কাজের আশায় প্রায় সাত বছর আগে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়া এই পরিবারটি কেরালায় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর কারাদণ্ড ভোগ করেন। দেশে ফেরার পর তাঁদের একটি মানবাধিকার সংস্থার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁদের বেনাপোল স্থলবন্দরের নোম্যান্সল্যান্ডে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান।
ফেরত আসা ব্যক্তিরা হলেন বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ধরাদোয়া গ্রামের আল আমিন শেখ (৩২), তাঁর স্ত্রী জোসনা আক্তার (২৭) এবং তাঁদের দুই বছরের সন্তান আরমান শেখ।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান জানান, প্রয়োজনীয় আইনি ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর দম্পতি ও তাঁদের শিশুসন্তানকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ তাঁদের দায়িত্ব নেয়। সংস্থাটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে।
‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর যশোরের ডেপুটি ম্যানেজার মুহিত হোসেন জানান, ভালো কাজের আশায় প্রায় সাত বছর আগে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে যান আল আমিন শেখ ও তাঁর স্ত্রী। পরে তাঁরা ভারতের কেরালায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে আল আমিন শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং তাঁর স্ত্রী বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করতেন।
পরবর্তী সময়ে দেশটির পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর আদালত তাঁদের চার বছরের কারাদণ্ড দেন। এরপর তাঁরা কারাগারে বন্দিজীবন কাটান।
কারাভোগের মেয়াদ শেষ হলে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাঁদের দায়িত্ব নিয়ে একটি শেল্টার হোমে রাখে। পরে দুই দেশের দূতাবাসের উদ্যোগ এবং ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাঁদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়।
বর্তমানে পরিবারটিকে যশোরের একটি শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শেষে তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে স্বজনদের কাছে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন এই দম্পতি ও তাঁদের শিশুসন্তান। তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।
