অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত দৈনিক ‘আমার দেশ’র নিজস্ব প্রেসের সামনে ককটেল হামলা সংবাদমাধ্যম এবং মুক্তচিন্তার ওপর এক নগ্ন আঘাত। গত রোববার রাতে সংঘটিত এই ন্যক্কারজনক ঘটনা কেবল একটি সংবাদপত্রের কার্যালয় বা প্রেসকে ভীতসন্ত্রস্ত করার অপচেষ্টাই নয়, বরং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি অবিলম্বে এর নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন, খুলনা।
এক বিবৃতিতে সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবাদপত্র হলো জাতির বিবেক এবং সমাজের দর্পণ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, অতীতেও এই প্রতিষ্ঠানটিকে নানা উপায়ে দমন এবং স্তব্ধ করার কুৎসিত অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। রোববার রাতে মোটর সাইকেলে এসে দুর্বৃত্তদের দুটি ককটেল নিক্ষেপ করার ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ভয় পায় এমন অপশক্তি এখনও সমাজে সক্রিয় রয়েছে। একটি ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হওয়ার পাশাপাশি অপরটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে থাকা এবং এই আকস্মিক হামলায় প্রেসের নিরাপত্তারক্ষী আকতার হোসেন ও নিরীহ পানের দোকানি রিনা খানমের আহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও উদ্বেগজনক। একজন সাধারণ পথচারী কিংবা কর্মজীবী মানুষ কেন এই রাজনৈতিক বা সন্ত্রাসী হিংসাত্মক আচরণের শিকার হবে? এই ধরনের হামলা জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার পরপরই তেজগাঁও থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারা আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং প্রশাসনিক উদাসীনতারই ইঙ্গিত দেয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করা খুব একটা অসম্ভব কিছু হওয়ার কথা নয়। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো না হয়, তবে দুর্বৃত্তদের ঔদ্ধত্য আরও বেড়ে যাবে, যা গোটা গণমাধ্যমের জন্যই এক অশনিসংকেত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ কিংবা রক্তচক্ষু দেখিয়ে সত্যের প্রকাশকে কোনোভাবেই থামিয়ে রাখা যাবে না। ‘আমার দেশ’ অতীতেও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলেছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সত্য প্রকাশ অব্যাহত রাখবে বলে দেশবাসীর দৃঢ় বিশ্বাস। সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের প্রাথমিক দায়িত্ব। এই কাপুরুষোচিত হামলার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় সচেতন সমাজ ও মুক্তমনা জনতা এই আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
খুলনা গেজেট/এনএম
