পাবনার চাটমোহরে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। বন্যার পানি আগেভাগে নেমে যাওয়ায় নতুন করে কিছু জমি চাষের আওতায় এসেছে। এতে গত বছরের তুলনায় ১৫ হেক্টর বেশি জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং এখন পর্যন্ত রোগবালাইয়ের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য না হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ মৌসুমে চাটমোহরের ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। এ মৌসুমে ৪২ হাজার ৯১৮ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি দপ্তর জানায়, প্রতিবছর হান্ডিয়াল, নিমাইচড়া ও ছাইকোলা ইউনিয়নের যেসব এলাকা পানিতে নিমজ্জিত থাকত, সেসব এলাকার বড় একটি অংশ এবার চাষের আওতায় এসেছে। বন্যার পানি আগেভাগে নেমে যাওয়ায় নতুন করে জমিতে আমন ধান রোপণ সম্ভব হয়েছে।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বাতাসে দোল খাওয়া আমন ধানের শিষে সোনালি আভা ফুটতে শুরু করেছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ধান কাটা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। নবান্নের প্রস্তুতি হিসেবে কেউ কাস্তেতে শান দিচ্ছেন, কেউ মাথাল প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ ধানের গোলা মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভালো ফলনের আশায় তাঁদের মধ্যে আনন্দ দেখা গেছে।

উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের কুমারগাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, চলনবিল অধ্যুষিত খলিশাগাড়ী বিলে তিনি ১৫ বিঘা জমিতে ব্রি ধান-৮৭ ও ব্রি ধান-১০৩ জাতের আমন ধান চাষ করেছেন। বিঘাপ্রতি ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন তিনি। তবে ভালো ফলনের পাশাপাশি ধানের ন্যায্যমূল্য পেলেই লাভবান হবেন বলে মনে করেন এই কৃষক।
মথুরাপুর ইউনিয়নের কৃষক মামুনুর রশীদ বলেন, এ বছর তিনি ৬ বিঘা জমিতে উফশী জাতের আমন ধান চাষ করেছেন। আগাম জাতের ব্রি ধান-৫৬, ব্রি ধান-৭৫ এবং বিনা ধান-৭, ১৭ ও ২০ জাতের ধান এক সপ্তাহের মধ্যে কাটবেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের পাচুরিয়া গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, তিনি সাত বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। আগে প্রচলিত জাতের ধান চাষ করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করছেন। এতে ফলন বেড়েছে। ফলে এবারও বেশি ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান সাঈদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সুষম সার প্রয়োগ ও লাইন-লোগো পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ কমছে এবং কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাইব্রিড ধানের চাষও বেড়েছে। এতে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ বলেন, ‘এ বছর চাটমোহরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনা মূল্যে রাসায়নিক সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও সেবা দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’
