অভিষেক বছরেই ব্যালন ডি’অরের মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথিউস। তার সম্মানে এবার ইংল্যান্ডের লন্ডনে বসেছিল ব্যালনের ৭০তম আয়োজন। হ্যারি কেইন প্রথমবার এই পুরস্কার জয়ের মধ্য দিয়ে নিজেদেরই আঙিনায় এবার ২৫ বছরের আক্ষেপ ঘুচেছে ইংলিশদের। তবে এর আগে ব্যালন ডি’অরের ওয়েবসাইটে ভুলবশত তিনজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল।
২০২৬ ব্যালন ডি’অরে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল হ্যারি কেইন, লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপের মাঝে। প্রতিপক্ষ দুজনকে পেছনে ফেলে ভোটাভুটিতে ব্যালন জিতে নেন বায়ার্ন মিউনিখের এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। গত মৌসুমে তিনি ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৭৩টি গোল করেছেন। ইংলিশদের হয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় হলেও বায়ার্নের হয়ে জিতেছেন বুন্দেসলিগাসহ দুটি ট্রফি।

কিন্তু নাম ঘোষণার আগপর্যন্ত কেউই নিশ্চিত ছিলেন না কে জিতবেন এবারের ব্যালন ডি’অর। কয়েক ঘণ্টা আগে পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে তিনটি পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে ২০২৬ সালের ছেলেদের ব্যালন ডি’অরজয়ী হিসেবে যথাক্রমে কেইন, ইয়ামাল ও এমবাপের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় পুরস্কার ঘোষণার আগে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
প্রতিবেদনগুলোতে এমবাপে, ইয়ামাল ও কেইনকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। যেখানে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের পরিসংখ্যান ও ক্যারিয়ারের পারফরম্যান্স তুলে ধরে তাকে বিজয়ী হিসেবে উপস্থাপনের যুক্তি দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত কেইনই পুরস্কারটি জেতেন, ফলে তার নামসংবলিত প্রতিবেদনটি সঠিক প্রমাণিত হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয় প্রতিবেদনগুলো।
আরও পড়ুন
এমবাপেকে নিয়ে লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়া এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে আরও এক দফা গোলের বন্যা কিলিয়ান এমবাপেকে প্রথম ব্যালন ডি’অর এনে দিয়েছে।’ টানা তৃতীয়বারের মতো কোপা ট্রফিজয়ী (সেরা উদীয়মান ফুটবলার) ইয়ামালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘মাত্র ১৯ বছর বয়সেই লামিনে ইয়ামাল ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৫৬ সালে চালু হয়েছিল এই পুরস্কার।’ তবে এই দুটি প্রতিবেদন স্থায়ী হয়নি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল স্পোর্টের তথ্যমতে, এ ঘটনায় আয়োজকরা বিস্মিত হন। কীভাবে প্রতিবেদনগুলো আগেই প্রকাশিত হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হয়। একইসঙ্গে দায়ীদের চিহ্নিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
এএইচএস
