Published on
:
2 min read
প্রশান্ত ঘোষ
পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে সিএনজি গাড়ির ব্যবহার বাড়ছে। পেট্রল-ডিজ়েলের তুলনায় দৈনিক খরচ কম বলে অনেকে উৎসাহিতও হচ্ছেন এমন গাড়ি কিনতে। কিন্তু সেই সিএনজি গাড়ির মালিকদেরই এখন ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে সিলিন্ডারের 'হাইড্রা টেস্ট' করাতে গিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় অন্তর সিএনজি সিলিন্ডারের এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। অথচ কলকাতা ও শহরতলিতে পর্যাপ্ত অনুমোদিত পরীক্ষাকেন্দ্র না থাকায় বহু গাড়ির মালিককেই ছুটতে হচ্ছে ৫০-৬০ কিলোমিটার দূরে।
কলকাতা, সল্টলেক, রাজারহাট-নিউ টাউন এলাকায় সিএনজি সিলিন্ডারের হাইড্রা টেস্টের সুযোগ কার্যত নেই বললেই চলে। ফলে নদিয়ার হরিণঘাটা কিংবা হুগলির চণ্ডীতলার মতো নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গাই ভরসা। সেখানে আবার সকাল থেকে গাড়ির লম্বা লাইন। চণ্ডীতলায় একটি সিলিন্ডারের হাইড্রা টেস্ট করাতে প্রায় আড়াই হাজার টাকা খরচ হচ্ছে বলে গাড়ির মালিকদের দাবি। সিএনজি ব্যবহারকারীদের বক্তব্য, পরীক্ষাকেন্দ্রটি পেট্রলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজ়েশন বা পিইএসও অনুমোদিত হওয়া আবশ্যক। পরীক্ষা সম্পূর্ণ হলে গাড়ির ফুয়েল ক্যাপে টিনের পাতের একটি সিল লাগানো হয়। তাতে পরীক্ষার তারিখ-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে। সেটিই সিলিন্ডারের বৈধতার প্রমাণ।
গাড়ির মালিকদের বক্তব্য, পেট্রল বা ডিজ়েলের তুলনায় অতিরিক্ত টাকা খরচ করে সিএনজি গাড়ি কিনেছেন, গ্যাস ভরতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে দীর্ঘ লাইন দিচ্ছেন। আবার সিলিন্ডারের পরীক্ষা করাতেও বিস্তর হ্যাপা পোহাতে হচ্ছে। ভাঙড়ের বাসিন্দা পল্টু মোল্লার অভিজ্ঞতা তিক্ত। তাঁর কথায়, 'আড়াই বছর আগে গাড়ি কিনেছি। কিন্তু তারও প্রায় ছ'মাস আগে কোম্পানি সিলিন্ডারটি গাড়িতে বসিয়েছিল। ফলে গাড়ি কেনার আড়াই বছরের মধ্যেই সিলিন্ডারের বৈধতা শেষ হয়ে যায়। পরীক্ষা করাতে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়েছে। গোটা দিনটাই নষ্ট।'
সমস্যা শুধু চারচাকার নয়। গড়িয়ার বাসিন্দা শুভদীপ রায় সিএনজি বাইক কিনেছেন দু'বছর আগে। তাঁর দাবি, ১০৩ টাকা দিয়ে এক কেজি গ্যাস ভরলে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলে বাইক। সিলিন্ডারের বৈধতা শেষ হয়ে যাওয়ায় গুগল করে হগলির একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছন তিনি। কিন্তু সেখানে বাইকের সিলিন্ডার পরীক্ষার পরিকাঠামো না থাকায় তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
কলকাতার মধ্যে কালীঘাটে অনুমোদিত এক এজেন্ট থাকলেও বর্তমানে পুজোর প্যান্ডেলের কারণে সেখানে পরীক্ষার পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি ব্যবহারকারীদের। ফলে কলকাতা, বনগাঁ, বসিরহাট কিংবা ডায়মন্ড হারবার—যেখানকার গাড়িই হোক, অনেককেই ছুটতে হচ্ছে চণ্ডীতলায়। চণ্ডীতলা বাজার থেকে প্রায় ছয়-সাত কিলোমিটার ভিতরে মেঠো রাস্তা পেরিয়ে আবু শেখের পোলের কাছে নির্জন এলাকায় একটি সংস্থার ওয়ার্কশপ। সকাল হতেই সেখানে গাড়ির লাইন পড়ছে, পরীক্ষা শেষ হতে বিকেল গড়িয়ে যাচ্ছে। কলকাতা ও শহরতলিতে সিএনজি সরবরাহ করে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড বা বিজিসিএল। সংস্থার এক অাধিকারিকের বক্তব্য, 'প্রযুক্তিগত ঝুঁকির কারণে সিলিন্ডারের বৈধতার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কোনও গাড়িতে গ্যাস ভরা সম্ভব নয়। শহরে প্রয়োজনের তুলনায় হাইড্রা টেস্টের পরিকাঠামো কম। আগামী দিনে সরকার আরও সংস্থাকে এই পরীক্ষার অনুমতি দেবে বলে আশা করছি।'