বই পরিচিতি (সার-সংক্ষেপ)
এটি মূলত তাঁর প্রখ্যাত তাফসির গ্রন্থ ‘তাফহীমুল কুরআন’-এর ভূমিকা হিসেবে লিখিত হয়েছিল; যাতে আল-কুরআনের পরিচিতি, প্রকৃতি এবং এটি অধ্যয়নের সঠিক পদ্ধতি নিয়ে একটি গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে।
"আল কুরআনের মর্মকথা" বিশ্বখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও মুফাসসির সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদূদী (রহ.) রচিত একটি সংক্ষিপ্ত ও অত্যন্ত জনপ্রিয় গ্রন্থ। এটি মূলত তাঁর প্রখ্যাত তাফসির গ্রন্থ ‘তাফহীমুল কুরআন’-এর ভূমিকা হিসেবে লিখিত হয়েছিল; যাতে আল-কুরআনের পরিচিতি, প্রকৃতি এবং এটি অধ্যয়নের সঠিক পদ্ধতি নিয়ে একটি গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে।
১. কুরআনের প্রকৃতি ও অবতীর্ণের রূপ
- দাওয়াত ও আন্দোলনের গ্রন্থ: কুরআন কোনো গতানুগতিক ধর্মীয় পুস্তক, ইতিহাসের কিতাব বা দার্শনিক গ্রন্থ নয়; এটি একটি জীবন্ত আদর্শিক দাওয়াত ও বিপ্লবাত্মক আন্দোলনের ধারাবাহিক ভাষণ।
- পর্যায়ক্রমিক নাজিল: এটি একবারে নাযিল হয়নি, বরং দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে (মক্কী জীবন ১৩ বছর ও মাদানী জীবন ১০ বছর) মানুষের বাস্তব পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী অবতীর্ণ হয়েছে।
২. মূল বিষয়বস্তু
- তাওহীদ বা একত্ববাদ: আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা কুরআনের মূল ভিত্তি।
- আখেরাত বা পরকাল: মানুষের কর্মের জবাবদিহিতা এবং পরকালীন জীবনের বিশ্বাস।
- খিলাফত ও নেতৃত্ব: পৃথিবীতে আল্লাহর নির্দেশিত আইন ও শাসনব্যবস্থা (খিলাফত) কায়েম করা।
- সঠিক কর্মনীতি: মানুষের ব্যক্তি, সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক জীবনের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা।
৩. মক্কী ও মাদানী জীবনের পরিক্রমা
- মক্কী পর্যায় (প্রথম ভাগ - ৪/৫ বছর): ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ও আকীদার সংশোধন এবং সত্যের দিকে আহ্বান।
- মক্কী পর্যায় (দ্বিতীয় ভাগ - ৮/৯ বছর): চরম বিরোধিতা ও প্রতিকূলতার মুখে কর্মীদের তীব্র আদর্শিক প্রশিক্ষণ এবং পরিণাম সম্পর্কে সতর্কীকরণ।
- মাদানী পর্যায় (১০ বছর): ইসলামী রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে দ্বীনের সম্পূর্ণ বিজয় অর্জন।
৪. কুরআন অধ্যয়নের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি
- পূর্বধারণামুক্ত মন: কোনো গতানুগতিক বা প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা মাথায় নিয়ে নয়, বরং একজন সত্যসন্ধানী মুসাফিরের মতো খোলা মনে কুরআন পড়তে হবে।
- গবেষণা ও মনোযোগ: নিছক তেলাওয়াত নয়, বরং এর প্রতিটি নির্দেশ অনুধাবন করে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার মানসিকতা রাখতে হবে।
- সমসাময়িক জীবনের সাথে সংযোগ: কুরআনকে কেবল অতীতের কোনো ঐতিহাসিক কিতাব না ভেবে বর্তমান যুগের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হিসেবে দেখতে হবে।
