জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট, মতিঝিল ডিভিশনের উপকমিশনার আবু হানিফ মোহাম্মদ আবদুল আহাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠলেও তিনি স্বপদে বহাল থাকায় ব্যবসায়ী সমাজ ও কাস্টমস মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস থেকে শুরু করে রাজধানীর পোস্তগোলার আইরিশ পাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, আখাউড়া স্থলবন্দর এবং সর্বশেষ ঢাকা ভ্যাট জোন—প্রতিটি কর্মস্থলেই তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানি ও বিতর্কের নজির রয়েছে।
২০১৭ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমসে অসদাচরণের দায়ে সিঅ্যান্ডএফ কর্মীদের তোপের মুখে তাঁকে বদলি করা হয় এবং ওই আদেশে তাঁর আচার-আচরণ সংশোধনের জন্য ট্রেনিং একাডেমির মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২১ সালে পোস্তগোলার একটি বারে অভিযানের সময় শুল্ক গোয়েন্দা দলের নেতৃত্ব দিয়ে মদপানে লিপ্ত হওয়া এবং ব্যবসায়ীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। আখাউড়া স্থলবন্দরে দায়িত্ব পালনকালে নিলামে কেনা কোটি টাকার বৈধ মালামাল জব্দের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুনে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন এক ব্যবসায়ী।
গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কর্মস্থল ত্যাগ করে বিদেশে পালিয়ে গেলেও চলতি বছরের ৫ মার্চ অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাঁকে ‘অসদাচরণ ও কর্মস্থল থেকে পলায়ন’-এর অভিযোগ থেকে রহস্যজনকভাবে অব্যাহতি দিয়ে পুনর্বহাল করা হয়। এই বিতর্কিত পদায়নের প্রতিবাদে গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে জাতীয় ক্রাইম রিপোর্টার সোসাইটি ও সাধারণ নাগরিক সমাজ। ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী ও সংক্ষুব্ধ নাগরিকরা এই কর্মকর্তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
