নেত্রকোনার মেঘালয় সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা অঞ্চলের সংঘবদ্ধ চোরাচালান, অস্ত্র কারবার ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের অন্ধকার জগৎ উন্মোচন করতে গিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির।
র্যাবের হাতে ধরা পড়া চোরাকারবারি থেকে শুরু করে স্থানীয় সন্ত্রাসী গডফাদারদের অপরাধ সাম্রাজ্যের খতিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে একাধিকবার হামলার মুখে পড়েছিলেন এই অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও আইপি টিভি প্রতিনিধি।
ইতিপূর্বে দুটি প্রাণঘাতী হামলা ও একাধিক মিথ্যা মামলা এড়িয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি, ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের তেলনজিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ির অদূরে এক চায়ের দোকানের সামনে অতর্কিত হামলা চালিয়ে মাত্র কয়েক গজ দূর থেকে তাঁর মাথা, গলা ও বুক লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি বর্ষণ করে ঘাতকেরা।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের এই দুর্গম এলাকায় মাদক ও চোরাচালান চক্র নিয়ন্ত্রণকারী দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী তাজুল ইসলাম ও শামীম আহমেদ ওরফে 'শুটার শামীম' এর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রধান বাধা ছিলেন সাংবাদিক আলিফ। শ্রমিক সেজে চোরাকারবারিদের আস্তানায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং নিহত হওয়ার ঠিক আগের দিন অপরাধজগতের 'গডফাদার' সম্পর্কিত বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশের ঘোষণার পরই এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত ছক সাজানো হয়।
এমনকি এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হামলায় ভুলবশত প্রাণ হারান পুলিশের এক উপপরিদর্শক। জীবন হারানোর চরম ঝুঁকি জেনেও সীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে একরোখা লড়াই চালিয়ে যাওয়া এই সাহসী সাংবাদিকের অকালপ্রয়াণে নেত্রকোনা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যেখানে পুলিশ ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজনদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে মূল পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনার অভিযান জোরদার করেছে।
