রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি শুরু করেছে, যার উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার দখলে থাকা ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা। মঙ্গলবার উভয় পক্ষই এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়র্টার্স।
তবে অন্যান্য এলাকায়, এমনকি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও হামলা অব্যাহত রয়েছে খবরে বলা হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির ফলে দক্ষিণ ইউক্রেনের সম্মুখসারির শহর ওলেশকিতে ত্রাণ পৌঁছানো এবং সেখান থেকে লোকজনকে সরিয়ে আনা সম্ভব হবে। শহরটিতে বর্তমানে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট চলছে।
ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান এবং মানবাধিকার বিষয়ক সংসদীয় কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেটস এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন যে, ইউক্রেন তার প্রতিশ্রুতি মেনে চলছে। তিনি রাশিয়ার যুদ্ধবিরতি শুরুর সময়ের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।
টেলিগ্রামে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মস্কোর সময় ভোর ৪টা (জিএমটি ০১:০০) থেকে ইউক্রেনের খেরসন শহরের দিকে গোলাবর্ষণ বন্ধ রেখেছে। এটি করা হয়েছে ওলেশকিতে মানবিক কার্যক্রমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে; শহরটি দিনিপ্রো নদীর ওপারে খেরসনের বিপরীতে অবস্থিত।
লুবিনেটস আরও জানান, এই সমঝোতাটি যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সমন্বয়ে এবং রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনার ইয়ানা লানত্রাতোভার সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ খেরসনের ওলেশকি শহরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। ২৩ অক্টোবর ফার্স্টলেডির দপ্তর (হোয়াইট হাউস) থেকে একটি মেলানিয়া ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ওলেশকির বর্তমান অবস্থা ভয়াবহ। যুদ্ধের সম্মুখসারির এ শহরটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে আছে।
কয়েকদিন আগে ট্রাম্প ঘোষণা বলেছিলেন রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি "জ্বালানি-বিষয়ক যুদ্ধবিরতি"র বিষয়ে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে ২০২২ সালে জো বাইডেন প্রশাসন কর্তৃক রুশ তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর গত সপ্তাহে রাশিয়া থেকে তেল কেনা শুরু করেছে আমেরিকা। কিয়েভ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার পর ৪০ হাজার টন তেল বোঝাই একটি জাহাজ দিয়ে নতুন বাণিজ্য শুরু হয়েছে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের সুত্রপাত হয়। রাশিয়া এখনো ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তাদের সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আগামী নভেম্বরের প্রথমার্ধে আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও আমেরিকার মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, যা এই যুদ্ধ বন্ধে এক নতুন কূটনৈতিক আশার আলো দেখাচ্ছে।
