রণবীর কাপুরের কাছে আসন্ন মহাকাব্যিক সিনেমা ‘রামায়ণ’-এ ভগবান রামের চরিত্রে অভিনয় করা কেবল একটি চরিত্র নয়, বরং বিশাল দায়িত্ব। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে এই কথা বলেন অভিনেতা।
তিনি জানান, এই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার পর প্রথমে ভয় ও আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগেছিলেন তিনি। বলিউডের মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন সঞ্চালিত জনপ্রিয় কুইজভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র দীপাবলি বিশেষ পর্বে ‘রামায়ণ’-এ অভিনয়ের প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন রণবীর।
চরিত্রটি পাওয়ার পর নিজের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রণবীর বলেন, স্যার, যখন আমাকে এই চরিত্রের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তখনই বুঝতে পেরেছিলাম, এটি শুধু একটি চরিত্র নয়, বরং অনেক বড় দায়িত্ব। আমার প্রথম অনুভূতি ছিল ভয়। মনে হচ্ছিল, আমি কি এই চরিত্রের যোগ্য? আমি কি পারব? ভগবান শ্রীরামের প্রতি কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস জড়িয়ে আছে।
তবে সময়ের সঙ্গে সেই ভয় কৃতজ্ঞতায় পরিণত হয় বলে জানান অভিনেতা। তার ভাষ্য, জীবনের এই পর্যায়ে এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া তার জন্য বিশেষ প্রাপ্তি। এই অভিজ্ঞতা তাকে শুধু ভালো অভিনেতা নয়; বরং আরও ভালো মানুষ হয়ে ওঠার সুযোগ করে দিয়েছে।
রণবীর বলেন, খুব দ্রুতই আমার সেই ভয় কৃতজ্ঞতায় বদলে যায়। জীবনের এই বয়সে একজন ভালো অভিনেতা হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। তবে শুধু অভিনেতা নয়, একজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠারও সুযোগ পেয়েছি।
এই সময়েই প্রথমবারের মতো বাবা হন রণবীর। তার মেয়ে রাহার জন্মও এই সময়ের কাছাকাছি। অভিনেতার মতে, ‘রামায়ণ’-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা এবং বাবা হওয়ার অনুভূতি তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
রণবীর বলেন, সেই সময়ই প্রথমবার বাবা হই, আমার মেয়ে রাহার জন্ম হয়। আমার মনে হয়, এটি ঈশ্বরের দেওয়া উপহার। আরও ভালো মানুষ হয়ে ওঠার, গভীরভাবে রামায়ণকে বোঝার এবং অসাধারণ কিছু মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।
মহাকাব্যটির শিক্ষা নিজের জীবনে ধারণ করার গুরুত্ব তুলে ধরে রণবীর আরও বলেন, ভগবান শ্রীরামের মতো হয়ে ওঠা হয়তো সম্ভব নয়। তবে তার আদর্শ থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করাও সবার জন্য অনেক বড় বিষয়।
রণবীরের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, ‘রামায়ণ’-এ অভিনয় তার কাছে শুধু পর্দার একটি চরিত্র হয়ে ওঠেনি; বরং ব্যক্তিগত জীবনেও নিজেকে আরও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
