বরিশালের উজিরপুরে নির্বাচনি সহিংসতা ও চোখ উৎপাটনের ঘটনার আলোচিত মামলায় একই পরিবারের ছয় আসামিকে পৃথক মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের জরিমানাও করা হয়েছে।
ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) বরিশাল সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারক মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় জনের মধ্যে সেলিম সিকদার এবং আবুল বাশার সিকদারকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ইউনুস সিকদার, আনিস সিকদার, নজরুল সিকদার ও জামাল সিকদারকে এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের সরকারি আইন কর্মকর্তা (পিপি) কাজী বসির উদ্দিন ও ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী হুমায়ুন কবির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানান, দণ্ডিতরা একই বংশের এবং পরস্পর নিকট আত্মীয়। তারা উজিরপুর উপজেলার শোলক গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার পর আসামিদের আদালত থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত সেলিম সিকদার ২০১১ সালে শোলক ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী ছিলেন। সেই নির্বাচনে প্রতিপক্ষের হয়ে কাজ করেন একই গ্রামের ইউনুস আকন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
এর জের ধরে একই বছরের ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ইউসুফ আকনকে ধরে হাত-পা বেঁধে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান সেলিম ও বাশারসহ তাদের স্বজনরা। পরে ইউসুফের বাম চোখ নষ্ট করে এবং ডান চোখ উপড়ে ফেলে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ইউসুফ আকনের ভাই ইউনুস আকন বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন ১৫ এপ্রিল উজিরপুর মডেল থানায় ১৪ জনের নামে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন।
একই বছরের ৩১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন উজিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. শামীম। আদালত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের স্বাক্ষগ্রহণ শেষে রায় ঘোষণা করেন।
সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের সরকারি আইন কর্মকর্তা (পিপি) কাজী বসির উদ্দিন বলেন, প্রায় ১৫ বছর পরে মামলাটির রায় হয়েছে। আদালতের এই রায়ে আমরা খুশি। বাদীপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে।
