Published on
:
3 min read
মাত্র ১৫ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ছাপ রাখতে শুরু করেছে বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Sooryavanshi)। নিউ জ়িল্যান্ডের (New Zealand) বিরুদ্ধে ওয়েলিংটনে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ওপেন করতে নেমে মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছে সে। চারটি ছক্কা, চারটি চার— শুরু থেকেই কিউয়ি বোলারদের উপর চড়াও হয়েছিল বৈভব। অন্য প্রান্তে অভিষেক শর্মার (Abhishek Sharma) বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে তখন রীতিমতো দিশেহারা নিউ জ়িল্যান্ডের বোলাররা। মাত্র কয়েক ওভারেই ম্যাচের ছবি বদলে দেয় ভারতের দুই ওপেনারের ব্যাট।
হাফসেঞ্চুরি থেকে মাত্র পাঁচ রান দূরে থামতে হলেও, বৈভবের এই ইনিংস ফের বুঝিয়ে দিয়েছে, শুরুতে ব্যাট করার সুযোগ পেলে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে সে। আর এই ইনিংসের পরেই প্রশ্ন উঠছে, বৈভবকে কি এ বার থেকে নিয়মিত ওপেনিংয়েই খেলানো উচিত? প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা জাতীয় নির্বাচক সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরও স্পষ্ট মত, বৈভবকে তার পছন্দের জায়গাতেই খেলানো দরকার।
তিন নম্বরে ব্যর্থ, ওপেনিংয়ে ফিরেই ঝড় বৈভবের
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ক্রাইস্টচার্চে ঈশান কিষানের (Ishan Kishan) পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েছিল বৈভব। তবে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে আট বলে মাত্র চার রান করেছিল সে। সেই ইনিংসের পর বৈভবকে ওপেনিংয়ে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ওয়েলিংটনে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ফের নিজের পছন্দের জায়গায় ব্যাট করার সুযোগ পেতেই ছবিটা বদলে দিল বৈভব।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করতে থাকে সে। অভিষেকের সঙ্গে জুটি বেঁধে নিউ জ়িল্যান্ডের বোলারদের উপর চাপ তৈরি করে বৈভব। মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রান করে আউট হলেও, তার আগেই ভারতের রান তোলার গতি অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছিল সে। অভিষেকের ব্যাটে যখন চার-ছক্কার বন্যা বইছে, তখন বৈভবও পাল্লা দিয়ে বড় শট খেলেছে। দুই ওপেনারের দাপটে পাওয়ার প্লের মধ্যেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে ভারতের হাতে।
সপ্তম ওভারে জ়্যাকারি ফিশারের (Zachary Foulkes) বলে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হয় বৈভব। লেগ স্টাম্পের বাইরে লেন্থ বল পেয়ে জায়গা তৈরি করে জোরে মারার চেষ্টা করেছিল সে। কিন্তু বল ব্যাটের নীচের দিকে লেগে শূন্যে উঠে যায়। লং অনে সামনে এগিয়ে এসে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন গ্লেন ফিলিপস (Glenn Phillips)। তাতেই শেষ হয় বৈভবের ইনিংস। আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার সময় তার মুখে ছিল হতাশা। হাফসেঞ্চুরি থেকে মাত্র পাঁচ রান দূরে থামতে হওয়ায় আক্ষেপ থাকতেই পারে। তবে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেওয়ার কাজটা ততক্ষণে করে ফেলেছে সে।
‘এখনই জায়গা বদলের কোনও মানে নেই’
বৈভবের ব্যাটিংয়ের ধরন এবং কোন জায়গায় তাকে খেলানো উচিত, তা নিয়ে এই সময় অনলাইনকে নিজের মত জানিয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা জাতীয় নির্বাচক সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, বৈভবের বয়স কম। এই সময় তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিয়মিত খেলার সুযোগ এবং নিজের পছন্দের জায়গায় ব্যাট করার স্বাধীনতা।
সম্বরণ বলেন, ‘বৈভবের বয়স এখনও খুব কম। ও সবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে শুরু করেছে। এখন ওর যত বেশি সম্ভব ম্যাচ খেলা দরকার। তবে ওকে দিয়ে ওপেনই করানো উচিত। অন্য জায়গায় খেলালে ওর সেরাটা পাওয়া যাবে না। এই ম্যাচেই সেটা প্রমাণ হয়ে গেল। আগের ম্যাচে তিন নম্বরে নেমে রান পায়নি। আর এ বার ওপেন করতে নেমে ১৯ বলে ৪৫ রান করেছে। এই পার্থক্যটাই অনেক কিছু বুঝিয়ে দেয়।’
কেন বৈভবকে ওপেনিংয়ে খেলানো উচিত, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সম্বরণ। তাঁর মতে, নতুন বলে ব্যাট করতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বৈভব। বল পুরনো হয়ে গেলে স্পিন সামলাতে তার কিছুটা সমস্যা হয়। তাই এখনই তার ব্যাটিংয়ের জায়গা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
সম্বরণের দাবি, ‘বৈভব নতুন বলে খুব ভালো খেলে। বল পুরনো হয়ে গেলে স্পিন খেলতে ওর একটু অসুবিধা হয়। ও এখনও অনেক ছোট। তাই এখন ওকে নিজের পছন্দের জায়গায় খেলতে দেওয়া উচিত। বয়স বাড়বে, অভিজ্ঞতা বাড়বে, তখন ওকে অন্য জায়গায় খেলিয়ে দেখা যেতে পারে। কিন্তু এখনই ওর ব্যাটিংয়ের জায়গা বদলানোর কোনও মানে হয় না। ওকে ওর মতো করে খেলতে দেওয়া দরকার।’
বৈভবের ঝড়ে সহজ জয় ভারতের
ওয়েলিংটনে নিউ জ়িল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে তিন উইকেটে ১৯৮ রান তুলেছিল। সেই রান তাড়া করতে নেমে বৈভব ও অভিষেকের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই পাল্টা আক্রমণ করে ভারত। মাত্র ২.২ ওভারেই ৫০ রানের জুটি গড়ে ফেলেন তাঁরা। এর পর মাত্র পাঁচ ওভারে ১০০ রান যোগ করে নতুন নজির গড়েন দুই ওপেনার। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ভারতের রান পৌঁছে যায় ১১৮-তে, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কোনও দলের সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে স্কোর।
বৈভব ৪৫ রানে আউট হওয়ার সময় ভারতের স্কোর ছিল ৭.১ ওভারে এক উইকেটে ১৩৩ রান। অর্থাৎ, ততক্ষণে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রানের বড় অংশ তুলে ফেলেছে ভারত। অভিষেকের ঝোড়ো ব্যাটিংও অব্যাহত ছিল। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩.২ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান তুলে ছয় উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় টিম ইন্ডিয়া।
বৈভবের ইনিংসটি হাফসেঞ্চুরিতে পরিণত হয়নি ঠিকই, কিন্তু তার আগ্রাসী ব্যাটিং ভারতের জয়ের পথ অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল। আগের ম্যাচে তিন নম্বরে নেমে ব্যর্থ হওয়ার পর ওপেনিংয়ে ফিরেই নিজের ক্ষমতা দেখিয়েছে সে। সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যও সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে— এই মুহূর্তে বৈভবের ব্যাটিংয়ের জায়গা নিয়ে পরীক্ষা না করে, তাকে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।