Published on
:
2 min read
এই সময়, আলিপুরদুয়ার: রাজাভাতখাওয়ায় রাজ্য সড়কের উপরে বন দপ্তরের টিকিট কাউন্টারের সামনে সোমবার বিক্ষোভ দেখাল বক্সার ১৮টি গ্রামসভার যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ। অরণ্যের অধিকারের দাবিতে তাদের আন্দোলন এ দিন ২১ দিনে পড়ল। সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভের জেরে বন দপ্তরের ওই টিকিট কাউন্টার কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে আন্দোলনকারীরা মিছিল করে রাজাভাতখাওয়া রেঞ্জ অফিসে পৌঁছে ডেপুটেশন দেন। বুধবার থেকে জেলা প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্সকন্যার পাশে আমরণ রিলে অনশনের হুমকি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বনবস্তিবাসীদের ওই আন্দোলনের জেরে জয়ন্তী ও রাজাভাতখাওয়া থেকে এ দিন জিপসি সাফারি বন্ধ ছিল। খোলেনি বক্সা পাহাড়, জয়ন্তী ও রাজাভাতখাওয়ার হোমস্টেগুলিও।
আন্দোলনের অন্যতম মুখ অয়ন নাইডু বলেন, 'আমরা ২১ দিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি। বন দপ্তরকে ২৫ তারিখের মধ্যে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার সময়সীমা দিয়েছিলাম। তা না করায় পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বন দপ্তরের টিকিট কাউন্টারের সামনে ধর্নায় বসেছি, বিক্ষোভ দেখিয়েছি।'
বনজন শ্রমজীবী মঞ্চের উত্তরবঙ্গের আহ্বায়ক লালসিং ভুজেল বলেন, 'বন দপ্তরকে দেওয়া সময়সীমা শেষ হয়েছে। বুধবার থেকে আমরা অরণ্যের অধিকারের দাবিতে ডুয়ার্সকন্যার পাশে আমরণ রিলে অনশনে বসব।' আগামী ১ নভেম্বর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছিল বন দপ্তর। তারপরেও আন্দোলন কেন? তিনি বলেন, 'মৌখিভাবে ওই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কোনও সরকারি ভিত্তি নেই।'
অন্যদিকে, জঙ্গলের অধিকার আদায়ের জন্য গ্রামসভার আন্দোলনে পাশে দাঁড়িয়েছেন রূপান্তরকামী রাজা দত্ত। অষ্টমীর দিন নেড়া হয়ে মাথার চুল জয়ন্তী নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে প্রতিজ্ঞা করেছেন, যতদিন না বনবস্তির বাসিন্দা, গ্রামসভার দাবি পুরণ হবে, ততদিন মাথায় চুল রাখবেন না। জঙ্গলের মানুষের দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে রাজার এই মরণপন লড়াইয়ের খুশি আন্দোলনকারীরা। সোমবার রাজাভাতখাওয়া গিয়ে গ্রামসভার আন্দোলনে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, 'জঙ্গল ও বনবস্তির মানুষকে আমি ভালোবাসি। আমি রূপান্তরকামী তাতে কী? ভালোবাসার টানে ওদের দাবিকে সমর্থন করতে ছুটে এসেছি। যতদিন দাবি পূরণ না হবে ততদিন আমি মাথায় চুল রাখব না।'
রাজার বয়স ২৮। ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশে ওডিশি নাচের শো করেছেন। তিনি বলেন, 'আমি সরকারের বিরুদ্ধে নই। আমাদের আন্দোলন বনদপ্তরের বিরুদ্ধে। বঞ্চিত গ্রামসভার হাজার হাজার মানুষের দাবি সবসময় উপেক্ষা করেছেন আধিকারিকরা। তাই আমি ওদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি।'
