নিহত ৩ জনের মধ্যে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামের ওমর আলীর ছেলে মোজাফফর হোসেন (৩৫)। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আরও দুজন। অন্যদের পরিচয় সম্পূর্ণ জানা যায়নি।
মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী একটি যাত্রীবাহী কোচের ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছেন। রংপুরের মিঠাপুকুরে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ডাম্প ট্রাকের পেছনে ধাক্কায় এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৮ জন। তাঁদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। চিকিৎসাধীন কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ মাজার মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ৩ জনের মধ্যে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামের ওমর আলীর ছেলে মোজাফফর হোসেন (৩৫)। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আরও দুজন। অন্যদের পরিচয় সম্পূর্ণ জানা যায়নি।
বড়দরগা হাইওয়ে পুলিশের এসএসআই মোয়াজ্জেম উদ্দিন জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রামগামী খান এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী কোচ মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ডাম্প ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে কোচটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১১ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা জায়, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. গোপাল চন্দ্র বর্মন জানান, দুর্ঘটনায় আহত ১১ জনের বেশি রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অনেকের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে রয়েছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার দুর্গাচরণ এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে নজরুল (৩৬), কুঠিপাড়া গ্রামের দুখু মিয়ার স্ত্রী লিপি বেগম (৫০), ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪৭) ও আয়েশা খাতুন (৭)। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী দুলালী বেগম (৪৪) এবং রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পূর্ব হাগুলিয়া গ্রামের মহসিন আলীর স্ত্রী বুলবুলি বেগম শাহীনা (৪০) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার মহাদেব এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলাম আপেল (২২) এবং লালমনিরহাটের পূর্ব আমবাড়ি গ্রামের ফারুক হোসেন (৩২)।
এ ছাড়া নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন লালমনিরহাটের বড়বাড়ি এলাকার ফারুক (৩০)।
চিকিৎসাধীন বুলবুলি বেগম শাহীনা অভিযোগ করে বলেন, ভোরে হাসপাতালে আনা হলেও সকাল ৯টার পর চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনেকের ব্যান্ডেজ তখনো করা হয়নি। চিকিৎসক বা নার্সের উপস্থিতি নিয়েও তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ছয় লেনের মহাসড়কটিতে বিভিন্ন স্থানে ট্রাকসহ নানা যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি তাঁদের।
বড়দরগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেছেন- সীমিত জনবল নিয়েই মহাসড়কের নির্ধারিত স্থানের বাইরে যানবাহন পার্কিং বন্ধে চেষ্টা চালানো হয়। অনেক সময় যানবাহন বিকল হয়ে যাওয়ায় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অনেকে তা মানেন না।
এছাড়া অতিরিক্ত গতিতে এবং ঘুম ঘুম অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণেও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে বলে দাবী ওসির। উক্ত দাবীর সাথে সচেতন মহল একমত পোষণ করেছেন।
