ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ও সংকটময় সময় পার করছেন। একদিকে বহুল প্রতীক্ষিত বড় পর্দায় বা সিনেমা অভিষেকে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তার কালো ছায়া, অন্যদিকে পর পর কয়েকটি মামলার আইনি বেড়াজালে রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন এই গ্ল্যামার কন্যা। সম্প্রতি একটি ফ্যাশন হাউজের ‘শাড়ি’ সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে একের পর এক নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত মূলত একটি দামি শাড়ি নেওয়া ও তা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে। ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তার ফ্যাশন হাউজ থেকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তিশা। কিন্তু পরবর্তীতে সেই শাড়ি আর ফেরত দেওয়া হয়নি। এই নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলা করা হয়। যদিও শুরুতে পিবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে অপরাধের সত্যতা পায়নি বলে জানিয়েছিল, তবে বাদীর নারাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটির পুনঃতদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দিয়েছেন।
এই শাড়ি বিতর্কের জল এখন আরও বহুদূর গড়িয়েছে। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭ (সি) ধারায় নতুন করে হত্যার হুমকির মামলা দায়ের করেছেন সেই একই নারী উদ্যোক্তা। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন এবং আগামী ২৩ নভেম্বর সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে শাড়ি ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে অভিনেত্রীর ওপর এখন একাধিক মামলার চাপ চেপে বসেছে।
এর আগে গত বছর ২৭ অক্টোবর শাড়ি নিয়ে ‘প্রতারণা করে বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে আরও একটি মামলা করেন অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশনের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এ মামলা করেন তিনি। এই মামলায় চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন তিশা। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আইনি এই ঝামেলার আঁচ সরাসরি এসে পড়েছে অভিনেত্রীর পেশাগত জীবনে। দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের বিপরীতে বড় পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে তার। ওটিটি ও ছোট পর্দায় দারুণ সাফল্যের পর এই সিনেমাটি তিশার ক্যারিয়ারের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হতে পারত। তবে সাম্প্রতিক এই বিতর্ক, মামলা ও আইনি জটিলতার কারণে বড় পর্দায় অভিষেক সিনেমাটি পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
জানা যায়, এখনো সিনেমাটির শুটিং শেষ করেননি নির্মাতা। এ ছাড়া নির্মাতার বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। বিগত এক বছরে দফায় দফায় শিল্পীদের সিডিউল নিলেও পরিচালক শুটিং শেষ করতে না পারায় এই সিনেমাটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেক শিল্পী নিজেরাও জানেন না, আদৌ সিনেমাটি আর আলোর মুখ দেখবে কিনা! ফলে অভিষেক সিনেমা নিয়েও অনিশ্চয়তায় আছেন তিশা, যার ফলে থমকে গেছে তার রুপালি পর্দার স্বপ্ন।
অবশ্য এই পুরো বিষয়টি নিয়ে এর আগে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন তানজিন তিশা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, তার দীর্ঘ ১৪ বছরের গোছানো ক্যারিয়ার কি একটি শাড়ির জন্য তিনি নষ্ট করবেন? তার দাবি ছিল, তাকে সামাজিকভাবে হেনস্তা ও ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার এখন খাদের কিনারায়। সিআইডির তদন্ত এবং আগামী ২৩ নভেম্বরের আদালতের শুনানির ওপরই নির্ভর করছে তিশার আইনি ভবিষ্যৎ এবং তার থমকে যাওয়া ক্যারিয়ারের নতুন মোড়। ভক্তরা এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন, তিশা কি পারবেন সব বিতর্ক পাশ কাটিয়ে আবারও স্বমহিমায় পর্দায় ফিরতে?
